রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬

চীনা এআইয়ের নতুন চমক: কম খরচে শক্তিশালী ‘জিএলএম-৫.২

Home Page » প্রথমপাতা » চীনা এআইয়ের নতুন চমক: কম খরচে শক্তিশালী ‘জিএলএম-৫.২
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬


কম খরচে শক্তিশালী ‘জিএলএম-৫.২

প্রযুক্তি বিশ্বে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত। গত বছর সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী এআই মডেল ডিপসিক দিয়ে বিশ্ববাজারে আলোড়ন তোলার পর এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছে বেইজিংভিত্তিক স্টার্টআপ জেড.এআই (Z.AI)। প্রতিষ্ঠানটির নতুন এআই মডেল জিএলএম-৫.২ (GLM-5.2) ইতোমধ্যেই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যন্ত কম খরচে উন্নতমানের পারফরম্যান্স দেওয়ার সক্ষমতার কারণে এই মডেলটি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই একে ‘মিনি ডিপসিক মোমেন্ট’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

জিএলএম-৫.২-এর অন্যতম বড় শক্তি হলো জটিল কোডিং এবং এজেন্টিক এআই সক্ষমতা। অর্থাৎ, খুব অল্প নির্দেশনা বা প্রম্পট দিয়েই এটি জটিল ও বহুমাত্রিক কাজ সম্পন্ন করতে পারে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের দাবি, মার্কিন শীর্ষ মডেলগুলোর তুলনায় প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ খরচে প্রায় একই মানের সেবা দিতে সক্ষম এই মডেল।

ইতোমধ্যেই ওপেনরাউটার-এর মতো জনপ্রিয় ডেভেলপার প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারের দিক থেকে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জিএলএম-৫.২। কিছু ক্ষেত্রে এটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর মডেলগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। ক্লাউড ডেটা প্ল্যাটফর্ম স্নোফ্লেক-এর প্রধান নির্বাহী শ্রীধর রামাস্বামী এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট মার্ক অ্যান্ড্রেসেনসহ প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এর প্রশংসা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক এআই উপদেষ্টা ডেভিড স্যাক্স এক পডকাস্টে বলেন, জিএলএম-৫.২ বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের সর্বাধুনিক মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উদ্ভাবনের গতি কমিয়ে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওপেনএআই-এর নতুন মডেল উন্মোচনে বিলম্ব এবং মার্কিন প্রযুক্তি নীতির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার সুযোগে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা এআই মডেলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশ এবং স্টার্টআপগুলো কম খরচের কারণে চীনা প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে।

কনকর্ডিয়া এআই-এর প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান সে বলেন, আন্তর্জাতিক ডেভেলপারদের মধ্যে এখন এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শুধুমাত্র মার্কিন মালিকানাধীন এআই মডেলের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এছাড়া এআই ব্যবহারে টোকেনভিত্তিক খরচ বাড়তে থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান ওপেন-সোর্স ও কম ব্যয়বহুল মডেলের দিকে ঝুঁকছে। হাগিং ফেস-এর সাবেক কর্মকর্তা তিয়েঝেন ওয়াং জানান, জিএলএম-৫.২ কোনো অতিরিক্ত ফাইন-টিউনিং ছাড়াই সহজে ব্যবহার করা যায়, যা ডেভেলপারদের কাজকে আরও সহজ করে তুলছে।

তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমা দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট খাতে এই মডেলের বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে ডেটা নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগকে। ব্যাংকিং, প্রতিরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল খাতে চীনা এআই ব্যবহারে এখনো অনীহা রয়েছে।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রধান এআই বিশ্লেষক ওয়েই সানের মতে, ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তাজনিত কারণে চীনা এআই প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক থাকলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাজারে জিএলএম-৫.২ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। অনেকের মতে, এটি রাতারাতি মার্কিন এআই-এর বিকল্প হয়ে উঠবে না, তবে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় নতুন ভারসাম্য তৈরির পথ খুলে দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৩:১৫ ● ১৩ বার পঠিত