তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আমলাতান্ত্রিক অপশাসন-ফরাসউদ্দিন

Home Page » জাতীয় » তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে আমলাতান্ত্রিক অপশাসন-ফরাসউদ্দিন
সোমবার ● ১৩ জুলাই ২০২৬


ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ড.মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন  বঙ্গনিউজ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ‘সম্পূর্ণরূপে আমলাতান্ত্রিক অপশাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে রাজনীতিকরা মূলত নিজেদের প্রতি আস্থাহীনতারই প্রকাশ ঘটাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। রোববার রাজধানীর বেসরকারি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক সুশাসন: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক লিখিত প্রবন্ধে তিনি দেশের সংসদীয় ও সাংবিধানিক সংস্কারের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব তুলে ধরেন। ফরাসউদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির পাশাপাশি নির্বাচনী সংস্কার করা হলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। তিনি রাষ্ট্রপতির মর্যাদা ও ক্ষমতার ভারসাম্য বাড়াতে সংসদ সদস্য ছাড়াও সিটি করপোরেশনের মেয়র, কমিশনার এবং জেলা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিস্তৃত নির্বাচকমণ্ডলী গঠনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, সকল সাংবিধানিক পদে নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে থাকা উচিত, তবে তা প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হতে হবে।

দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে সাবেক এই গভর্নর জানান, নব্বইয়ের দশকের শেষে ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ১০ শতাংশ নগদ জমার বিধান থাকলেও এখন তা কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক পরিবার থেকে ব্যাংক পরিচালকের সংখ্যা দুই থেকে চারজনে এবং তাদের মেয়াদ চার থেকে ১২ বছরে উন্নীত করা হয়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে ৬ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই অংক মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ।

লিখিত বক্তব্যে ফরাসউদ্দিন ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোর উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বিজয়ী সব পাবে’ নীতির কারণে জনপ্রিয় ভোটের সামান্য পার্থক্যেও সংসদীয় আসনে বিশাল ব্যবধান তৈরি হয়। এটি নিরসনে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করে তিনি বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব, সংবিধান সংশোধন ও অর্থ বিল ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যদের দলীয় নির্দেশনার বাইরে ভোট দেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

প্রশাসনিক সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারি খাতে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদ নিরপেক্ষভাবে পূরণ করা গেলে বেকারত্বের হার কমবে। আমলাতন্ত্রের সংস্কারে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন কমিশন গঠন এবং অদক্ষ কর্মকর্তাদের ‘স্বেচ্ছায় অবসরের আকর্ষণীয় সুবিধা’ দিয়ে অবসরে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া রাজস্ব আদায়ের দুর্বলতাকে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করে কর প্রশাসনকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর জোর দেন তিনি।

জাতির পিতা এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র নিয়ে চলমান বিতর্ককে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমানের দেওয়া ভাষণেই এর সমাধান রয়েছে, যেখানে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।

‘নহরীন খান মেমোরিয়াল লেকচার অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ড সিরিমনি ২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ফখরুল আলম, কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য শামস রহমান প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৬:১৬ ● ৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ