বুধবার ● ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে আসছে সার

Home Page » সংবাদ শিরোনাম » কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে আসছে সার
বুধবার ● ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কানাডা-রাশিয়া-সৌদি আরব থেকে আসছে সার

 

কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় ও সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা।

এর মধ্যে কানাডা থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আনা হবে। আর সৌদি আরব থেকে আমদানি করা হবে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার।

 

আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় অনলাইনে সভায় যুক্ত হন।

প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। সার আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

 

কানাডা থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি

বৈঠকে কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে এমওপি সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন এবং চতুর্থ লটে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে।

প্রতিটি লটে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ দুই লটে মোট ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার। তৃতীয় ও চতুর্থ লটের প্রতিটির সার আমদানির মূল্য ১ কোটি ৫৩ লাখ ৫২ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা।

বিএডিসির কানাডা থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় নীতিগত অনুমোদন পেয়েছিল। আগের চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় কমিটির অনুমোদন নিয়ে গত ১৩ আগস্ট চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বা প্রাইসিং ফর্মুলা অনুসরণ করে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে তৃতীয় ও চতুর্থ লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে কানাডা থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) এ পর্যন্ত কানাডা থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

রাশিয়া থেকে আরও ৩৫ হাজার টন এমওপি

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে সপ্তম লটে ৩৫ হাজার (+১০ শতাংশ) মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। এর বিপরীতে সারটির মোট আমদানি মূল্য ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৩ হাজার মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার।

রাশিয়া থেকে এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব এর আগে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়। পূর্ববর্তী চুক্তির কার্যক্রম শেষ হওয়ায় গত ২৪ মে চুক্তিটি পুনরায় নবায়ন করা হয়। চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সপ্তম লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে বিএডিসির এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এরই মধ্যে দেশটি থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হয়েছে।

সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের মা’আদেন থেকে ২০২৬ সালের চতুর্থ লটে ৪০ হাজার (+১০ শতাংশ) মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এতে সরকারের ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সারের মোট আমদানি মূল্য ৩ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার।

বিএডিসি সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করে থাকে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের ডিএপি সার আমদানির জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে বিএডিসি ও সৌদি আরবের মা’আদেনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে চতুর্থ লটের সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি প্রত্যাশামূলক অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডিএপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা ৯ লাখ ৯১ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করা হবে।

মোট ব্যয় প্রায় ৯৮৩ কোটি টাকা

চারটি প্রস্তাবের মধ্যে কানাডা থেকে দুই লটে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩৭৯ কোটি ৩৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা। রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি আমদানিতে ব্যয় হবে ১৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। আর সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৪৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ৯৮২ কোটি ৬১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকা। এসব সার আমদানির অর্থ কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে ব্যয় করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪:৪৫:৪৫ ● ১৮ বার পঠিত