সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৪৮: স্বপন চক্রবর্তী

Home Page » সাহিত্য » সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৪৮: স্বপন চক্রবর্তী
মঙ্গলবার ● ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩


ফাইল ছবি-কাজী নজরুল ইসলাম

কাজী নজরুল; বহু বিশ্রুত ও বিস্ময়কর এক প্রতিভা: পর্ব-৩

পরাধীনতার গ্লানি থেকে জাতিকে মুক্ত করার মহান ব্রত নিয়ে তিনি কবিতা লিখেছেন। তাঁর কবিতার বাণী অগ্নিঝরা, শানিত ও রুদ্ররসের আকর। তিনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে উদ্দীপনা জাগিয়েছেন, সামাজিক অন্যায়, উৎপীড়নের বিরুদ্ধে মূখর হয়েছেন।
প্রচলিত অর্থে কবি নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি, কারণ তাঁর কবিতার ভাষায় শাসক, যাজক, সমাজপতি সকলের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ আছে। কিন্তু তাঁর এ বিদ্রোহ অনাসৃষ্টি তৈরী করার জন্য নয়, অন্যায়কে প্রতিহত করে সত্য ও সুন্দরের প্রতিষ্ঠার জন্য। সত্যকে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর আত্মবোধ ছিল জাগ্রত। তাই তিনি জেল জুলুমকে ভয় করেননি। তিনি যে প্রচন্ড শক্তির অধিকারী সে কথা সরবে নির্ভয়ে ঘোষণা করেছেন। আসলে তিনি ছিলেন নির্ভীক দেশ প্রেমিক, মানব প্রেমিক কবি। বিদ্রোহের অন্তরালে কল্যাণের মন্ত্র ছিল লুক্কায়িত। তিনি বিচিত্র অনুভবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন। শক্তি, বীর্য ও সাহসিকতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন তিনি।

দেশের দুর্দশা দেখে তিনি অশান্ত হয়ে উঠেছিলেন। সত্য বাণীই তাঁর রসনায় ঝলসে উঠেছিল খর খড়গ সম। তিনি যে বিদ্রোহী তা তিনি স্বীকার করেছেন এবং এই বিদ্রোহের কারণ যে অত্যাচারীর বিনাশ সাধন তাও বলেছেন। কবি বলেছেন- “
“আমি সেই দিন হব শান্ত
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ ভীম রণ ভূমে রণিবে না।”
এতে বুঝা যায় কবি উৎপীড়িতের পক্ষে কথা বলেছেন, অত্যাচারীর ধ্বংস কামনা করেছেন। মূলত কবির বিদ্রোহ ছিল অসুর শক্তির বিরুদ্ধে। তাঁর হৃদয়ে ছিল সত্য সুন্দরের কল্পনা। দেশকে ,দেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ণ থেকে মুক্ত করার মহান ব্রত তিনি নিয়েছিলেন এবং সে ব্রত তিনি পালন করেছেন উদ্দীপ্ত বাণীর জাগরণী সুরের ভেতর দিয়ে। কাজী নজরুল ইসলাম তাই বিদ্রোহী নন , তিনি নতুনের ,সত্য ও সুন্দরের প্রবর্তক। কাব্য যে শুধু নন্দন তাত্বিক কথামালা নয়, তা যে অসত্যের বিরুদ্ধে শানিত হাতিয়ার তা তিনি প্রমাণ করেছেন। (চলবে )

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৭:২০ ● ৫৯৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ