সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৫৬: স্বপন চক্রবর্তী

Home Page » সাহিত্য » সীমান্ত ভ্রমণের সাতটি দিন ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা ; পর্ব- ৫৬: স্বপন চক্রবর্তী
শনিবার ● ৪ মার্চ ২০২৩


ফাইল ছবি-কাজী নজরুল ইসলাম

নজরুল-জীবনের শেষ অধ্যায় - অন্তহীন দুঃখ-কষ্টেরই এক আখ্যান-৪
লুম্বিনী হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত ব্যয় বহুল। কিন্তু নজরুল পরিবার ছিল কপর্দক শূন্য । তাঁর পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করার ক্ষমতা মোটেও ছিলনা। ফলে বাধ্য হয়ে প্রায় চারমাস যেতে না যেতেই ১৯৪৩ সালের ২৪/২৫ ফেব্রুয়ারী কবিকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো। এই সময়ের মধ্যেই কবির মধ্যে কিন্তু উল্লেখযোগ্য একটা পরিবর্তন দেখা গেলো। তিনি আর আগের মতো উন্মত্ত আচরণ করছেন না। বরং তিনি হয়ে পড়ে ছিলেন সম্পূর্ণ নির্বাক ও ভাবলেশ হীন। প্রচন্ড ঝড়-ঝঞ্ঝার মতো কবি যিনি একটা ধুমকেতুর মতো বাংলার মধ্য গগনে উদিত হয়ে ছিলেন, তিনিই হয়ে গেলেন একবারে শান্ত নির্জীব ও বোধ শক্তিহীন। তাঁর করুন চোখ দু’টিতে শুধুই ছিল এক উদাসীন দৃষ্টি। কবি কাজী নজরুল ইসলাম যখন স্মৃতি ভ্রংশের অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন সেই সময়ে বাইরের পৃথিবীতে চলছিল ঘটনার ঘনঘটা। কবি যার বিন্দু বিসর্গ কিছুই জানতে পারেন নি। এক দিকে যেমন সারা দেশ জুড়ে চলছিল মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে “ভারত ছাড় “ আন্দোলন, অন্যদিকে তেমনি নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল আজাদ হিন্দ বাহিনীর মরণ পণ লড়াই। এরই মাঝে ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘটায় ভারতে জাপানীদের বোমা বর্ষণের আতঙ্ক। আবার পাশাপাশি সেই তুষের আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছিল সারা দেশ জুড়ে হিন্দু-মুসলমানের ভয়াবহ ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সেই অস্থির সময়ে সব চেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ছিল এটাই যে, ১৯৪৬ সালের আগস্ট মাসে বিভৎস দাঙ্গা যখন কোলকাতায় চলছিল তখন নজরুল ইসলামের শ্বাশুড়ী গিরীবালা দেবী যিনি নজরুল ইসলামের সংসারটিকে দু’হাত দিয়ে বুকে বুকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন , সমস্ত দুর্যোগ থেকে আগলে রেখে ছিলেন, রক্ষা করে ছিলেন , সেই অসাধারণ এক মহীয়সী মহিলা হঠাৎ সবার অলক্ষ্যে চির কালের জন্য নিরুদ্দিষ্ট হলেন। কবির সংসার ছেড়ে তিনি চলে গেলেন। কোথায় গেলেন, কেউ তাঁর খোঁজ আর কখনো কেউ দিলেন না। ( চলবে )

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩১:৫১ ● ৩৮২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ