হরদীপ সিং নিজারকে হত্যা,ভারতের হাত থাকতে পারে-ট্রুডো

Home Page » জাতীয় » হরদীপ সিং নিজারকে হত্যা,ভারতের হাত থাকতে পারে-ট্রুডো
বুধবার ● ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩


শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজার

বঙ্গ-নিউজ: কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজারকে গত ১৮ জুন একটি শিখ মন্দিরের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে ভারত সরকারের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই ইস্যুতে কানাডা থেকে ভারতের একজন শীর্ষ কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছে। খবর আনাদোলু।

গতকাল সোমবার বিকেলে পার্লামেন্টে বক্তৃতায় জাস্টিন ট্রুডো বলেন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের সারে শহরে শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজারের গুলিতে নিহত হওয়ার পেছনে ভারত সরকারের হাত ছিল বলে ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ রয়েছে। কানাডিয়ান নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ হত্যাকাণ্ডে সম্ভাব্য যোগসূত্রগুলোর ব্যাপারে ব্যাপক ও নির্ভরযোগ্য তদন্ত চালিয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

জি-২০ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদি ও জাস্টিন ট্রুডো

ট্রুডো বলেন, তিনি এই মাসের শুরুর দিকে নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এ ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়েছিলেন।

কানাডিয়ান নাগরিক নিজার ছিলেন পাঞ্জাব অঞ্চলের খালিস্তানি রাষ্ট্রের স্বাধীনতার একজন সোচ্চার সমর্থক। তিনি খালিস্তানি টাইগার ফোর্স (কেটিএফ) নামের একটি সংগঠনের প্রধান ছিলেন। ভারত সরকার তাকে জঙ্গী আখ্যা দিয়েছিল। এক পুরোহিতের খুনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন অভিযোগে তার জন্য ১০ লাখ টাকার পুরস্কারমূল্য ঘোষণা করে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তবে নিজারের সমর্থকরা সব সময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল।

সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে কানাডায় শিখ সম্প্রদায়ের লোকজনকে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার জন্য ট্রুডোকে তিরস্কার করেছিলেন। জবাবে ট্রুডো তাকে জানান, গণতান্ত্রিক কানাডায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি রয়েছে।

এ প্রসঙ্গ টেনে পার্লামেন্ট বক্তৃতায় ট্রুডো বলেন, কানাডার মাটিতে একজন কানাডিয়ান নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে বিদেশি সরকারের যেকোনো পর্যায়ে জড়িত থাকা আমাদের সার্বভৌমত্বের একটি অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন। একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজ পরিচালনাকারী দেশের জন্য এটি মৌলিক নিয়মের পরিপন্থী। ট্রুডো ‘বিষয়টির গভীরে যাওয়ার জন্য’ তদন্তে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কানাডা একজন ‘শীর্ষ ভারতীয় কূটনীতিক’কে বহিষ্কার করেছে। তারা বিষয়টির সমাপ্তি টানার জন্য ভারতের পক্ষ হতে সম্পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

উল্লেখ্য, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কানাডার সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এর জেরে কানাডিয়ান সরকার ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য মিশন স্থগিত করে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:০১:৩৬ ● ২৬৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ