কর্মচারীতে অবরুদ্ধ সোনালী ব্যাংক এমডি

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » কর্মচারীতে অবরুদ্ধ সোনালী ব্যাংক এমডি
বুধবার ● ১০ জুলাই ২০২৪


 পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আফজাল করিম

বঙ্গনিউজঃ আগের বছরের চেয়ে পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে উৎসাহ বোনাস। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মুনাফায় শ্রমিকদের অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) থেকেও করা হয়েছে বঞ্চিত। বাতিল করা হয়েছে পোষ্য কোটা। এমন নানা দাবিতে ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হাতে অবরুদ্ধ হয়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আফজাল করিম। সোমবার (০৮ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এমডির দপ্তরের সামনে বসে অবরোধ করে সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ)। এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট অবরুদ্ধ ছিলেন সোনালী ব্যাংকের এমডি। পরে আন্দোলনকারীদের ৪ দফা দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

সিবিএ সংগঠনটির প্রস্তাবিত দাবিগুলো হলো- ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে যারা অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরিরত তাদের অবিলম্বে স্থায়ীকরণ, ২০২৩ সালের পরিচালন মুনাফা বিপরীতে ৬টি বোনাস প্রদান, অবিলম্বে নতুন করে কর্মচারী নিয়োগ এবং পোষ্য কোটা চালু করা।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনটি বোনাস দেওয়ার জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। যদিও আগের বছর সোনালী ব্যাংকের কর্মীরা সাড়ে ৪টি বোনাস পেয়েছিল। সোনালী ব্যাংকের সবশেষ হাল নাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। এর আগের বছর ২০২২ সালে মুনাফা করেছে ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা।

সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুল হক বলেন, কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে ২০২৩ সালে ব্যাংকটির ইতিহাসে রেকর্ড মুনাফা করেছে সোনালী ব্যাংক। ফলে কর্মীরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেলে কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের পরও যদি বোনাস কমে যায়, তাহলে তারা নিরুৎসাহিত হবেন। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ৬টি বোনাসের জন্য আমরা দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছি। উল্টো সেখানে এখন বোনাস কমিয়ে দেওয়ার ফলে ব্যাংক খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এর আগে সোনালী ব্যাংকের এমপ্লয়িজ ইউনিয়েনের নেতাকর্মীরা গতকাল বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এমডিকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটের দিকে ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আফজাল করিম নিজ রুম থেকে বেরিয়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি ধাওয়াগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন। পরে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানেরও আশ^াস দেন। দাবিগুলো সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকীকেও অবহিত করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, সহসভাপতি ছায়েদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলম শরীফ ভূঞা কাজী মো. মহসিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান ভূঞা, মীর আসাদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, আবু নাহিদ শেখ, কাজী আমান উল্লাহ এবং রেজাউল করিম, ফেরদৌস আলী। আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের সভাপতি জহুরুল ইসলাম সজিব, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক লেলিন, আবু সোলাইমানসহ অন্য নেতাকর্মীরা।

সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে যা আছে:

২০২৩ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত ‘উৎসাহ বোনাস’ নামে গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়। এতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) বাস্তবায়ন হারের ওপর ২০ শতাংশ এবং পরিচালন মুনাফা হারের ওপর ৮০ শতাংশ স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। এই স্কোরের ভিত্তিতে পরিচালন মুনাফা থেকে উৎসাহ বোনাস বণ্টন হবে। ফলে কোনো ব্যাংক ৫০ এর নিচে স্কোর পেলে বোনাস দিতে পারবে না। আর ৫০ থেকে ৬০ স্কোর পেলে এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসাহ বোনাস পাবে, ৬১ থেকে ৭০ হলে দেড় মাস, ৭১ থেকে ৮০ হলে দুই মাস, ৮১ থেকে ৯০ হলে আড়াই মাস এবং ৯০ এর বেশি স্কোর হলে তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ উৎসব বোনাস পাবেন সরকারি ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ সময়: ৯:১৩:১২ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ