
জন্মদিন, বিবাহ, বিবাহবার্ষিকী, ছেলেমেয়ের কৃতিত্ব, আনন্দ ,বিরহ-বেদনা, সাফল্য সব কিছুতে রঙলেপা শুভেচ্ছা দিয়ে থাকে। অনেকে নিজেই সবাইকে জ্ঞাত করেন, আর আমরা তার জবাবে পাল্টা শুভেচ্ছা জানাই। এটাকে আমাদের রঙলেপা পরিবারের দৈনন্দিন ঘটনা বলেই মনে করি এবং প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকরণকে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে হয়। সেটা বিলম্বে হলেও করা হয়। অল্প বিস্তর হলেও করা হয়। এ বিষয়ে আমাদের কেন্দ্রবিন্দু যিনি, সেই জালাল উদ্দিন মাহমুদ স্যারের অকৃপণ অবদান অস্বীকার করি কেমন করে। ভেবে পাইনা, ব্যক্তিগত শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি সঠিক সময়ে কাব্যরস সহযোগে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং অন্য সকলকে শুভেচ্ছা জানাতে আহ্বান জানান। আমরাও সাধ্য মতো তাঁর ডাকে সাড়া দিতে চেষ্টা করি। হাজারো শুভেচ্ছা, অথবা বিরহে কাতরতা এবং শান্তনা জানানো, এ সব একটা অন্যতম মহৎ গুণ। যাদের শুভেচ্ছা জানানো হয়, তিনি গর্বিত হন নিঃসন্দেহে। এটার মূল্যকে টাকার অংকে মূল্যায়ন করা যাবে না। কোটি টাকার চেয়েও বেশি মুল্যবান হয়ে যায় তখন কারো ব্যক্তি জীবনে। পৃথিবীতে কোন ব্যক্তির আগমনের দিনটি আর গুরুত্বহীন বা সাধারণ দিন থাকে না। থাকে না ধনী দরিদ্রের ব্যবধান। এটাকেই বা কি করে সামান্য বলে বিবেচনা করি? তাই আমার মনে হয়েছে যে, ”রঙলেপা” আমাদের মতো গুরুত্বহীন দেরকে সামান্য হলেও পরিচিত করেছে। তবে দুঃখের সাথে এটাও বলতে হচ্ছে, একা জনাব জালাল উদ্দিন মাহমুদ সাহেব এখন কুলায়ে উঠতে পারছেন না। এটা একার পক্ষে খুবই দুরূহ কাজ। বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। তাই বিকল্প কোন উপায় নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। সবাই বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ দিবেন আশা রাখি।
রঙলেপার আকাশে হঠাৎ একটা ধুমকেতুর মতো জ্বল জ্বল করে উঠেছিলেন আক্তারা বেগম. ( Aktara Begum ) আবার হঠাৎ মিলিয়েও গেলো ঠিক ধুমকেতুর মতোই। বেশ মুন্সিয়ানা ছিল তাঁর লেখাতে। সহজ সরল ও প্রাঞ্জল বর্ণনাতে তিনি লিখেছেন। মন্ত্রমুগ্ধের মতো আমরা পড়েছি সে সব লেখা। কাজের মেয়ের সহজ সরলতা এবং অবিকৃত আঞ্চলিক ভাষার সংমিশ্রণে লেখা খুব সুখপাঠ্য হয়ে ছিল। গ্রাম্য কাজের মেয়ের সরলতা ও কুটিলতা সবই ছিল তার স্বভাব সুলভ আচরণে। আর এসবই তিনি তুলে ধরেছেন সহজ ভাবে। ফলে লেখা হয়েছিল আকর্ষণীয়। কিন্তু হঠাৎ কেন থেমে গেলো সে লেখা জানিনা। প্রতিভার স্ফুরণ ঘটাতে হয়। ছাই চাপা দিতে নেই। তাই আমরা আশা করবো যে আবারও তিনি কলম হাতে তুলে নিবেন। লিখবেন রঙলেপার জন্য, লিখবেন নিজের জন্য।
অগ্রণী ব্যাংকের একজন অবসরপ্রাপ্ত জিএম আছেন। বহু প্রতিভাবান। জনাব মোহাম্মদুল্লাহ স্যারের কথা বলছি। তিনি একাধিক বই লিখেছেন। যদিও অধিকাংশই ব্যাংকিং সর্ম্পর্কিত। তা হোক, আমাদের গ্রুপের বেসিক তো ব্যাংক থেকেই। তিনি গ্রুপের জন্য নিশ্চয়ই লিখতে পারেন। একটু সময় দিলে ব্যাংকের অনেক নিয়ম কানুন, বৈদেশিক বাণিজ্য ঋণ ও সাধারণ ব্যাংকিং সম্পর্কে আগ্রহী পাঠকগণ জানতে পারবেন। তাছাড়া যিনি সাঁতার জানেন, তিনি নদী আর পুকুরে পার্থক্য করবেন কেন? আমরা তাঁকেও সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই যেন রঙলেপায় তিনি লিখেন।
রঙলেপার আর একটি দিক আছে, “ রঙলেপা মানবিক সহায়তা “ গ্রুপ । প্রতি বছর আর্ত মানুষের জন্য সামান্য কিছু করার মানসে এটার জন্ম। খুব সম্ভবত সৈয়দ রুহুল আমিন স্যার উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। ডিজিএম জনাব জামাল উদ্দিন সভাপতি এবং জনাব সুপ্রভা সাঈদ ডিজিএম মহোদয় এর সেক্রেটারী হিসেবে গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এবারের পুনর্গঠিত কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জনাব রফিক সরকার এবং জনাব আবু তাহের হিমেল। সদস্য হিসেবে থাকবেন সর্বজনাব জালাল উদ্দিন মাহমুদ, আলতাফ হোসেন তালুকদার, তাসমিনা জেবিন,জহির উদ্দিন প্রমূখ। গত ১৯/১২/২৫ তারিখে পঞ্চগড়ে শীতবস্ত্র বিতরনের জন্য কর্মসূচী নির্ধারিত ছিল। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ভাবে শীত বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শীতকালে শীতার্থ মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। এটিও রঙ-লেপা গ্রুপের অন্য একটি সংযোজন। গ্রুপটি বিগত বছর গুলোতে পাথরঘাটা, বরগুণা, নাগেশ্বরী, কচাকাটা, ও কুড়িগ্রামে কম্বল বিতরণ করেছে । তার পূর্বে ফেনী, গাইবান্ধা ও নেত্রকোনায় বন্যার্তদের মাঝে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। পঞ্চগড়ের শীতবস্ত্র বিতরণ টীমের নেতৃত্ব দিয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ডিএমডি ও রঙ-লেপা ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা জনাব নূরুল আহসান এন্ড্রো এবং সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা ব্যাংকের এসএভিপি তাসমিনা জেবিন। উত্তর বঙ্গের প্রচন্ড শীতকে উপেক্ষা করে চিরসবুজ অবসরপ্রাপ্ত ডিএমডি মহোদয় এবং তাসমিনা জেমিন নিজ খরচে কষ্ট করে পঞ্চগড়ের মতো স্থানে শীত বস্ত্র বিতরণে নেতৃত্ব দিতে যাওয়া অবশ্যই ধন্যবাদার্য বিষয়। তবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এসব সামাজিক কাজের জন্য সময় ও সুযোগ বের করা কষ্টকর। তাই বৃহদাকারে কোন কর্মসূচী গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যতে কিছু করা যায় কিনা তা সকলের সক্রিয় সহযোগিতা ও পরামর্শ বলে দিবে।
দেশ-বিদেশের দাতাদের অকৃপণ দানে এই ”রঙলেপা মানবিক সহায়তা” গ্রুপটি চালু আছে। ন্যুনতম ৫০/- টাকা হতে উর্ধে যে কোন অংকের টাকা আগ্রহীগন প্রদান করতে পারেন। এতে খুব ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তবে কোন কোন দাতা নিজেদের নাম পরিচয় গোপন রাখতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। এর রয়েছে খুব একটা স্বচ্ছ হিসাব নিকাশ পদ্ধতি। আছে সার্বিকভাবে স্বচ্ছতা। ন্যুনপক্ষে একজন উপমহাব্যবস্থাপক বা সমতুল্য পদমর্যাদার ব্যক্তির তত্বাবধানে টিম তৈরি করা হয়। তারপর নিজেদের উদ্যোগে নিখুঁত তালিকা তৈরি করে তবেই সরেজমিনে গিয়ে শীতকালীন বস্ত্র বা অর্থ বিতরণ করা হয়। আমাদের বিকাশ নাম্বার আছে, যেখানে টাকা প্রেরণ করা যায়। আবার ব্যাংক হিসাবও রয়েছে। অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি এর ঢাকাস্থ নর্থ-সাউথ রোড শাখায় একটি হিসাব পরিচালিত হচ্ছে। অনলাইন ভিত্তিক সেই হিসাব নাম্বারটি আগ্রহী ও হৃদয়বান ব্যক্তিদের জ্ঞাতার্থে উল্লেখ করছি। সঞ্চয়ী হিসাব নং -০২০০০২২২৩৭৭৬৬ .
গত ১৯/১২/২৫ তারিখে সীমান্তবর্তী অঞ্চল পঞ্চগড়ে শীত বস্ত্র বিতরণ করতে আমাদের যে টীম গিয়েছিল তার দু’একটি ছবি নিচে দেয়া হলো। ( চলবে )
