সোমবার ● ১১ মে ২০২৬

নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার

Home Page » জাতীয় » নবম পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার
সোমবার ● ১১ মে ২০২৬


সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর

সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে নবম জাতীয় পে স্কেল। প্রাথমিক সুপারিশে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ভাতাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পে স্কেল একবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাবে তিনটি ভাতায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হিসেবে দেওয়া বৈশাখী ভাতা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং সন্তানদের শিক্ষা ভাতা মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার সুপারিশও রয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তাই ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরো পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি পদ্ধতি বিবেচনা করা হচ্ছে — তিন ধাপে বাস্তবায়ন অথবা পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে, পরের বছর বাকি অংশ সমন্বয় এবং তৃতীয় বছরে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা কার্যকর হবে।

মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় ও সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি অর্থ পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য ব্যয় হবে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৫:০৮ ● ১২ বার পঠিত