বঙ্গনিউজ: ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে গেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ পাচ্ছে না বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। নতুন নোটের ঘাটতির কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকাররা।বাংলাদেশ সংবাদ
ব্যাংক কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ব্যাংক চাহিদার মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ পাচ্ছে। ফলে ঈদের আগে গ্রাহকদের নগদ উত্তোলনের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে।
একাধিক ব্যাংক সূত্র জানায়, একটি ব্যাংক বৃহস্পতিবার ৫৮০ কোটি টাকা চাইলেও পেয়েছে মাত্র ১২০ কোটি টাকা। অন্য একটি ব্যাংক ১২০ কোটি টাকার বিপরীতে পেয়েছে ৪০ কোটি টাকা। একইভাবে আরও কয়েকটি ব্যাংক চাহিদার তুলনায় অনেক কম নগদ অর্থ পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো তারল্য সংকট নয়; মূল সমস্যা নতুন নোট ছাপানোর ঘাটতি। ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকশাল থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চাইলেও কাগজ ও কালি সংকটের কারণে প্রায় অর্ধেক সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাজার থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সংবলিত পুরোনো ডিজাইনের প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার নোট এখনো নিরাপত্তা মুদ্রণ করপোরেশনে পড়ে আছে, যা বাজারে ছাড়তে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বাজারে নগদ টাকার চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর হাট, বোনাস প্রদান ও বাড়তি কেনাকাটার কারণে নগদ টাকার চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেড়ে যায়। বিশেষ করে বৃহস্পতিবারগুলোতে ব্যাংক ও এটিএম বুথে চাপ বেশি থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ সরবরাহ করা হবে। নতুন ছাপানো নোট পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে কিছু ব্যাংকার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বাজারে নগদ সংকটের আলোচনা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখা ব্যাংক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।