বঙ্গনিউজ: ওমানে চালু গাড়ির ভেতর ঘুমিয়ে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসরোধ হয়ে চার বাংলাদেশি ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর রয়্যাল ওমান পুলিশ আবদ্ধ অবস্থায় যানবাহনের ভেতরে না ঘুমাতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। নিহত চার ভাই হলেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। মৃত চারজনের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।দেশের খবর
ওমানে গাড়িতে বিষাক্ত গ্যাসে ৪ বাংলাদেশি ভাইয়ের মৃত্যু
ছবি -সংগৃহীত
গত বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত আটটার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে নিজেদের অসুস্থতার কথা জানান। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এবং গাড়ি থেকে বের হতে না পারার কথা জানিয়ে তারা মায়ের কাছে ফোন করে দোয়া চান। পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের মরদেহ আগামী মঙ্গলবার বিকেলে দেশে পৌঁছাবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বজনরা। বাংলাদেশ দূতাবাস ও চট্টগ্রাম সমিতি ওমানের মাধ্যমে একই ফ্লাইটে তাদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গাড়ি দুর্ঘটনা না হওয়ায় এই ঘটনার ব্যয়ভার ওমান সরকার নিচ্ছে না, তাই খরচ নিহতদের স্বজন এবং চট্টগ্রাম সমিতি ওমান বহন করবে। এরই মধ্যে চার ভাইকে পাশাপাশি দাফনের জন্য কবরস্থান নির্ধারণ ও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর তাদের মা খাদিজা বেগমকে এখনো জানানো হয়নি। শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে একমাত্র জীবিত ছেলে মোহাম্মদ এনাম বিষয়টি মায়ের কাছ থেকে গোপন রেখেছেন। স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দরিদ্র পরিবারটি এই প্রবাসী ভাইদের পাঠানো আয়েই চলত।