মার্কো রুবিওর আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করেন

Home Page » জাতীয় » মার্কো রুবিওর আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করেন
মঙ্গলবার ● ২৬ মে ২০২৬


সংগৃহীত ছবি-মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও তার স্ত্রী জেনেট রুবিও বঙ্গনিউজ: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফরে এসে আগ্রার ঐতিহাসিক তাজমহল পরিদর্শন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জেনেট রুবিও। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থলটির সামনে বিখ্যাত বেঞ্চে বসে তোলা ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন এই দম্পতি।

ছবিটি দেখতে নিখুঁত হলেও চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেটিই তেহরানের নতুন কটাক্ষের অস্ত্র হয়ে ওঠে। রুবিও ছবি পোস্ট করার পরপরই ইরানিরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করতে শুরু করেন।
হায়দরাবাদে ইরানের কনস্যুলেট জেনারেল এক পোস্টে জানায়, রুবিও যদি ইতিহাস বা স্থাপত্য সম্পর্কে জানতেন, তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতেন না।
তারা আরও লিখে, এই স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিল সম্রাটের ইরানি স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা থেকে, আর এটি গড়ে তুলেছিলেন ইরানি স্থপতিরা। অথচ আজ তার সরকার ইরানি সভ্যতাকে মুছে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং অন্য সভ্যতাকে অপমান করছে।
ইরান সংঘাতের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি সভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। এর জবাবে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ২৫০ বছরের ইতিহাসের সঙ্গে ইরানের হাজার বছরের ঐতিহ্যের তুলনা টেনে বিদ্রূপ করেন।
মুঘল সম্রাট শাহজাহান ১৬৩২ সালে তার তৃতীয় স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে তাজমহল নির্মাণ করেন।
মুঘল স্থাপত্যের এই অনন্য নিদর্শনের শিকড় গভীরভাবে পারস্য ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। রাজপরিবারের বংশধারা থেকে শুরু করে স্থপতি ও কারিগর—সবখানেই ছিল পারস্যের প্রভাব।
মমতাজ মহল, যার আসল নাম ছিল আর্জুমান্দ বানু বেগম, ছিলেন এক প্রভাবশালী পারস্য বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য। তার বাবা আবদুল হাসান আসাফ খান ছিলেন উচ্চপদস্থ পারস্য অভিজাত।
তার দাদা মির্জা গিয়াস বেগ, যিনি পরে ইতিমাদ-উদ-দৌলা উপাধি পান, তেহরান থেকে ১৫৭৭ সালে ভারতে আসেন সম্রাট আকবরের দরবারে যোগ দিতে। এই পরিবারের সূত্রেই মমতাজ ছিলেন সম্রাজ্ঞী নূরজাহানের ভাতিজি।
মমতাজ মহলের মা দিওয়ানজি বেগমও ছিলেন পারস্যের কাজভিন অঞ্চলের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান।তাজমহলকে আধুনিক ইরানের বাইরে পারস্য স্থাপত্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে ধরা হয়। এর বিশাল গম্বুজ, মার্বেলের জড়ানো নকশা এবং নিখুঁত সমমিতি—সবই সাফাভি পারস্য স্থাপত্য থেকে নেওয়া।
তাজমহলের চারবাগ বাগানও পারস্য নকশার প্রভাব বহন করে। পুরো বাগানটি চার ভাগে বিভক্ত, যার মাঝে পানির খাল রয়েছে। এটি জান্নাতের চার নদীর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
মার্বেল দেয়ালে খোদাই করা কোরআনের আয়াতগুলো নির্বাচন ও লিখেছিলেন শিরাজের বিখ্যাত পারস্য ক্যালিগ্রাফার আবদুল হক। তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ শাহজাহান তাকে আমানত খান উপাধি দেন।
সব মিলিয়ে তাজমহল হলো পারস্য শিল্প ও স্থাপত্যের সঙ্গে ভারতীয় কারুশিল্প ও উপকরণের এক অনন্য মিশ্রণ।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩১:২৩ ● ৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ