রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-৩৭ স্বপন চক্রবর্তী

Home Page » সাহিত্য » রঙলেপা- ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরেঃ পর্ব-৩৭ স্বপন চক্রবর্তী
বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬


স্বপন কুমার চক্রবর্তী
রঙলেপার জন্মদিন কেন ১ অগ্রহায়ণ?
( পূর্বে প্রকাশিতের পর)
নতুন ধান ঘরে এলে উঠানের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রাম-বাংলার কিষাণীরা। গ্রাম বাংলায় তখন এক আনন্দঘন আবহের সৃষ্টি হয়। নবান্ন উৎসবের সাথে মিশে আছে বাঙ্গালীর হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির নানান দিক। বহু পুরাতন কাল থেকে বাঙ্গালী জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নবান্নকে নিয়ে উৎসবে মেতে উঠে। প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের হৃদ্যতাপূর্ণ একটা সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ়বন্ধনে আবদ্ধ হয়। অর্থাৎ চিত্ত সুখে নৃত্য বাড়ে।
উৎসব প্রবণ বাঙ্গালীর রয়েছে বার মাসে তের পার্বণের সংস্কৃতি। নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। হেমন্ত এলেই দিগন্তজোড়া মাঠ সোনালী রঙে ভরে উঠে। কৃষকের পলকহীন দৃষ্টি তখন মাঠের দিকে। অভাব দুরিভূত হবার যেন কনক শোভা মাঠের বাতাসের সাথে দুল খাচ্ছে। সেই শোভা দেখে কৃষকের বুকে নতুন এক বার্তা নিয়ে আনন্দের ঢেউ খেলতে থাকে। নবান্ন হলো হেমন্তের প্রাণ। সোনালী ধানের প্রাচুর্য আর বাঙালীর বিশেষ আনন্দ এই নবান্নকে ঘিরে বহু কবি সাহিত্যিকের লেখায় উঠে এসেছে বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যের ছবি। কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় লিখেছেন- “আবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়, হয়তো মানুষ নয়, হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে, হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে, কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠালছায়ায়”। আর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গেয়েছেন, “ অগ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে কি দেখেছি মধুর হাসি, সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” ।
( চলবে)

বাংলাদেশ সময়: ২০:৩১:০৬ ● ৪৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ