ট্রাম্প দুই মেয়াদে ১৫টি দেশে হামলা চালিয়েছেন, এবার লক্ষ ওমান

Home Page » জাতীয় » ট্রাম্প দুই মেয়াদে ১৫টি দেশে হামলা চালিয়েছেন, এবার লক্ষ ওমান
বৃহস্পতিবার ● ২৮ মে ২০২৬


ফাইল ছবি-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বঙ্গনিউজ: সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দুই মেয়াদে বিশ্বের ১৫টি দেশে হামলা চালিয়েছেন, হামলার হুমকি দিয়েছেন বা হামলার সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছেন। হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে অন্তত একটি দেশ তার সামরিক হুমকির মুখে পড়েছে।

বুধবার ওই তালিকায় ওমানের নাম যুক্ত করেছেন ট্রাম্প। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তবে দেশটিকে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

হোয়াইট হাউসের এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘ওমানকে অন্য সবার মতোই আচরণ করতে হবে, তা না হলে আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ঘোষণার অংশ ছিল না, বরং তা অনেকটা স্বাভাবিকভাবেই করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির একটি বিস্তৃত কাঠামোর সঙ্গে মিলে যায়, যেখানে শক্তি প্রয়োগের হুমকি একটি নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্প তার শাসনামলে যেসব দেশে হামলা চালিয়েছেন, হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেননি বা সরাসরি হুমকি দিয়েছেন, ওমান সেই তালিকার অন্তত ১৫তম দেশ।

এর প্রায় সবগুলো ঘটনাই তার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৬ মাসের মধ্যে ঘটেছে। যদিও কিছু ঘটনা দুই মেয়াদ জুড়েই বিস্তৃত।

চলতি মেয়াদে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সাতটি দেশে হামলা চালিয়েছেন। এগুলো হলো ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং ইয়েমেন। এর মধ্যে কয়েকটি দেশে তার প্রথম মেয়াদেও হামলা চালানো হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই হিসাবের মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে থাকা নৌকাগুলোর ওপর চালানো হামলা অন্তর্ভুক্ত নেই। ওইসব হামলায় প্রায় ৬০টি নৌযানে আঘাত হানা হয়েছে এবং ১৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

বর্তমান মেয়াদে কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, ডেনমার্কের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকো, পানামা এবং ওমানসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে হামলার হুমকি দিয়েছেন বা হামলার সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন ট্রাম্প।

এর আগে প্রথম মেয়াদে তিনি মেক্সিকো ও উত্তর কোরিয়াকেও হুমকি দিয়েছিলেন।

এই হুমকি ও হামলাগুলোর ধরন একেক রকম। ইরাকে চালানো হামলাসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো দেশের সরকারের বদলে শুধুমাত্র সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছিল। অন্য হুমকিগুলো কিছুটা পরোক্ষ ছিল, যেখানে ট্রাম্প কেবল সামরিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

তারপরও এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, ট্রাম্প কত ঘন ঘন শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি যেসব দেশে হুমকি দিয়েছেন বা হামলা চালিয়েছেন, সেসব দেশে বিশ্বের প্রতি ১১ জনের মধ্যে একজনের বসবাস। এর অর্থ হলো, ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার সম্ভাবনার বিষয়টি বিবেচনা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের।

এক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এ পর্যন্ত ওই অঞ্চলের পাঁচটি দেশে হুমকি দিয়েছেন বা লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। এগুলো হলো ইরান, ইরাক, ওমান, সিরিয়া ও ইয়েমেন।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তার হুমকি ও হামলাগুলো বিশ্বের জনবহুল ছয়টি মহাদেশের মধ্যে চারটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এগুলো হলো আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা।

উত্তর আমেরিকায় ডেনমার্কের ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনার কথা আলোচনা করে তিনি মূলত ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ককেও কার্যত হুমকি দিয়েছেন।

বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্রাম্পের মন্তব্য সামরিক হুমকির সীমা ছাড়িয়ে সম্ভাব্য ভূখণ্ড সম্প্রসারণের দিকে গড়িয়েছে। তিনি যে ১৫টি দেশে হুমকি দিয়েছেন বা হামলা চালিয়েছেন, তার মধ্যে পাঁচটি অঞ্চলকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অংশ বা মার্কিন নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলো কানাডা, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, পানামা (বিশেষ করে পানামা খাল) এবং ভেনিজুয়েলা।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৪৫:৫৮ ● ৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ