
ইরাতফা বিনতে রেদোয়ান, নিজস্ব প্রতিবেদক, বঙ্গনিউজঃ
বাংলার আবহমান সংস্কৃতি, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও সাহিত্যচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে সারাদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘সৃজন উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ৩ জুলাই (শুক্রবার) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলার শিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনব্যাপী উৎসবটি এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ৯ টা ৩১ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্য, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, কবিতা পাঠ, সংগীত, সম্মাননা প্রদান এবং বিভিন্ন জেলার শিল্পীদের পরিবেশনায় একে একে সাজানো হয় উৎসবের বিভিন্ন পর্ব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হবার সম্মত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়াম, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক এ কে এম বদরুদ্দোজা; লেখক ,গবেষকও দৈনিক বঙ্গনিউজ এর সম্পাদক এবং বিডিসি চ্যানেলের চেয়ারম্যান প্রফেসর লুৎফর রহমান জয়; হেলথকেয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ জালাল উদ্দিন আহমেদ; কবি, গবেষক, ও জনতা ব্যাংক পিএলসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়েজ আলম , ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী:, কবি, শিশু সাহিত্যিক ও সংগঠক এস. এম. শামসুল আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জুয়েল।

উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল তিনটি পৃথক অধিবেশন। প্রথম অধিবেশনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সৃজন উৎসব উপলক্ষে আবৃত্তিশিল্পী ও আবৃত্তিগ্রন্থ পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি, পরিচালনা পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও বিভিন্ন জেলা কমিটির শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে.

এ অধিবেশনে কবি ইমরোজ সোহেল-এর লেখা ‘তুলতুলে কাঠের পুতুল’-এর পাঠ উন্মোচন করা হয় এবং অধ্যাপক রেণু আহমেদের সুরে বিশিষ্ট শিল্পী অভিজিৎ দে’র কণ্ঠে সংগীত পরিবেশিত হয়।

তৃতীয় অধিবেশনে বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সদস্যদের একক আবৃত্তির পাশাপাশি আমন্ত্রিত আবৃত্তি সংগঠন ‘চিলেকোঠার চিরকুট’, ‘পঞ্চকণ্ঠ’ এবং ‘সিন্ধু সারস’-এর শিল্পীরা মনোমুগ্ধকর আবৃত্তি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে বহুমাত্রিকতা যোগ করে। চট্টগ্রাম, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, বরিশাল, খুলনা, যশোর, রংপুরসহ বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা নিজ নিজ পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ আবৃত্তিশিল্প উন্নয়ন পরিষদ দেশব্যাপী আবৃত্তিশিল্পের প্রসার, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রকাশনা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

দেশের ২৫টিরও বেশি জেলায় সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডও পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংগঠনের উপদেষ্টা ও পরিচালকবৃন্দ- ইমরোজ সোহেল, জাহান বশীর, শামসুল বারী উৎপল , কানিজ আফরোজ রীনা, বিধুরা ধর, বিধান চন্দ্র রায়, শফিক ইসলাম, আতাউর রহমান, রেনু আহমেদ , শিমলী দাশ ও রাই শিল্পী সহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক জাহান বশীর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “সংস্কৃতি মানুষকে মানবিক করে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং আগামী প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। সৃজন উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি সৃজনশীল মানুষদের মিলনমেলা এবং বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে একটি ধারাবাহিক আন্দোলন।”
দিনব্যাপী এ উৎসবে উপস্থিত অতিথি, শিল্পী ও দর্শকরা আয়োজকদের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন জেবুন্নেছা মুনিয়া, রিনিক মুন এবং নুরন নেছা মিলি এবং অনুষ্ঠান সমন্বয় করেছেন ফারিন তামান্না, মায়াবী হোসাইন নূপুর, কবি রুহুল মাহবুব।
প্রাণবন্ত পরিবেশ, বৈচিত্র্যময় আয়োজন এবং দেশব্যাপী শিল্পীদের অংশগ্রহণে ‘সৃজন উৎসব-২০২৬’ বাংলা সংস্কৃতি চর্চার এক সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত হয়।
ভিডিওতে দেখতে নিচের লিংকটি ক্লিক করুনঃ