জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা

Home Page » জাতীয় » জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা
শুক্রবার ● ৩ জুলাই ২০২৬


জুলাই-আগস্টে বন্যার শঙ্কা

উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশের ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে উজানের অতিবৃষ্টি এবং প্রধান নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

এফএফডব্লিউসির নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান বলেন, জলবায়ুগত কারণেই জুলাই ও আগস্ট মাস বাংলাদেশে বন্যাপ্রবণ সময়। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তার প্রভাব দ্রুত দেশের নদ-নদীতে পড়ে এবং বন্যার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির স্তর কিছুটা কমলেও আগামী চার দিনে আবারও পানি বাড়তে পারে। পঞ্চম দিনে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, আগামী পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে ওই অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, সুনামগঞ্জের মারকুলি এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

সারদার উদয় রায়হান জানান, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন দিন আগে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়া যায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হলেও আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। এছাড়া উজানে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে মেঘনা অববাহিকার অবস্থাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে এফএফডব্লিউসি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ বন্যাগুলোর বেশিরভাগই ঘটেছে বর্ষার মধ্যবর্তী এই সময়ে। ১৯৮৮ সালের বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় তিন কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

তাদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা—দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেয়। ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যার অন্যতম কারণও ছিল এই দুই নদীর একযোগে পানি বৃদ্ধি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও উজানের অতিবৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। ২০২২ সালের সিলেট অঞ্চলের বন্যা এবং ২০২৪ সালের বড় বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটিরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সময়: ১১:৩৭:২৬ ● ১৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ