
কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে ফ্রান্স। শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর ম্যাচে শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত ফরাসিদের রুখে দাঁড়াতে পারেনি প্যারাগুয়ে।
ম্যাচজুড়ে দুই দলই জমাট লড়াই উপহার দেয়। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে উত্তেজনা ছড়ালেও নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে একটি পেনাল্টিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে প্যারাগুয়ের দিয়েগো গোমেজ ও ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ের সংঘর্ষের ঘটনা ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনা করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক থেকে নির্ভুল শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই জয়সূচক হয়ে থাকে।
গোল হজমের পর প্যারাগুয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও ফরাসি রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। অন্যদিকে ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর বেশ কয়েকটি সুযোগ পান এমবাপ্পে। তবে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল দুর্দান্ত নৈপুণ্যে একাধিক নিশ্চিত গোল রুখে দেন। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে এমবাপ্পের দূরপাল্লার শট ঠেকানোর পাশাপাশি যোগ করা সময়েও পরপর দুটি সুযোগ নষ্ট করতে বাধ্য করেন তিনি।
এই জয়ের ফলে আগামী ৯ জুলাই ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে মরক্কো।
এদিকে পেনাল্টি থেকে করা এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত। এতে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছেছেন। এছাড়া বিশ্বকাপে দুটি ভিন্ন আসরে অন্তত সাতটি করে গোল করার কীর্তিও গড়েছেন এই দুই তারকা।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। তবে সেই আসরের ফাইনালে তার ফ্রান্সকে হারিয়েই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছিল লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা।
বর্তমানে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সাতটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তাদের ঠিক পেছনেই পাঁচটি করে গোল নিয়ে অবস্থান করছেন নরওয়ের আরলিং হলান্ড এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন।
টুর্নামেন্ট শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বিবেচনায় নেওয়া হবে গোলে সহায়তার সংখ্যা। এরপরও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে। বর্তমানে অ্যাসিস্টের হিসাবে এমবাপ্পে মেসির চেয়ে এগিয়ে থাকায় গোল্ডেন বুটের লড়াই আরও জমে উঠেছে।