রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রপতির

Home Page » জাতীয় » সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রপতির
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

সরকার দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং ভবিষ্যতের বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রোববার ঢাকার সেনানিবাসে প্রেসিডেন্টস গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর)-এর ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়নে সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতির বাস্তবায়নের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী।

তিনি বলেন, পিজিআর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষায়িত, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার ইউনিট। রাষ্ট্রপতি, সরকারপ্রধান, বিদেশি রাষ্ট্রীয় অতিথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় ইউনিটটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে।

পিজিআরের সদস্যদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ভবিষ্যতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রচলিত সামরিক হুমকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং হাইব্রিড নিরাপত্তা ঝুঁকি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এসব মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা, উন্নত গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং সর্বক্ষণিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে পিজিআর ভবিষ্যতে আরও দক্ষ, আধুনিক ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি পিজিআরের সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্বাভাবিক যোগাযোগ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়েও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের ঘটনায় পিজিআরের পাঁচ সদস্যও প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। দায়িত্ব পালনকালে নিহত পিজিআরের সব সদস্যের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাষ্ট্রপতি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটেন এবং রেজিমেন্টের উত্তরোত্তর সাফল্য, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী প্রধান, বঙ্গভবনের সচিববৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পিজিআরের কমান্ডার এবং রেজিমেন্টের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:২১:২৬ ● ১৪ বার পঠিত