সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত জনপদ মধ্যনগর। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এই নিভৃত অঞ্চলে জন্ম নিয়েছেন বহু আলোকিত ও কৃতী মানুষ। তাঁদের কর্ম ও অবদান সমৃদ্ধ করেছে অবহেলিত এই জনপদকে। তাঁদেরই একজন—চামরদানী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দুগনই গ্রামের সন্তান এম শহীদ। একজন সমাজসেবক, একজন রাজনৈতিক কর্মী এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক নিবেদিত নাম।
সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এম শহীদের বেড়ে ওঠা উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দুগনই গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম সবুজ মিয়া ছিলেন তৎকালীন মধ্যনগর থানা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়, তিনি ছিলেন এলাকার একজন সম্মানিত সালিশি ব্যক্তিত্ব এবং মধ্যনগর উপজেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।
পিতার আদর্শ, সততা ও জনসেবার শিক্ষা শৈশব থেকেই প্রভাব ফেলেছিল এম শহীদের জীবনে।
গ্রামের মেঠোপথ আর বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা এম শহীদ ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন—প্রকৃতির মতো উদার হয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার।
সেই স্বপ্ন নিয়েই ছাত্রজীবন থেকে তিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার এক অনন্য বন্ধন।
চলতি বছরে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় যখন হাওরাঞ্চলের কৃষকদের স্বপ্নের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম, তখন অনেকের মতো শুধু সহানুভূতি জানিয়ে থেমে থাকেননি এম শহীদ।
নিজস্ব অর্থায়নে বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কৃষকের স্বপ্নের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিনি হয়ে ওঠেন বিপদে মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।
রাজনীতিকেও তিনি দেখেন মানুষের সেবার একটি মাধ্যম হিসেবে। শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে গিয়ে কারাবরণ করেছেন। রাজপথের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে হামলা ও মামলারও শিকার হয়েছেন। তবুও নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে তাঁর ছোট ভাই অপি আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরিবারের এই আত্মত্যাগ তাঁর রাজনৈতিক পথচলাকে আরও দৃঢ় করেছে।
চামরদানী ইউনিয়ন—৩৫টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। এখানে হিন্দু ও মুসলমান দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করছেন। এটি এ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান এম শহীদ।
তাঁর বিশ্বাস, জনগণের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই পারে একটি ইউনিয়নের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।
চামরদানী ইউনিয়ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনো অনেক পিছিয়ে।তিনি চান মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করতে। কারণ, যে জাতির জীবনমান উন্নত, সেই জাতিই প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ।”
উন্নয়নের স্বপ্ন, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনসেবার অঙ্গীকার—এই তিন বিশ্বাসকে সামনে নিয়েই এগিয়ে চলেছেন এম শহীদ। হাওরের জনপদের মানুষ এখন দেখছে নতুন সম্ভাবনার এক পথ। সেই পথ কতদূর এগিয়ে যাবে, তার উত্তর দেবে সময়। তবে মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার তিনি করেছেন, সেটিই তাঁর পথচলার সবচেয়ে বড় পরিচয়।