বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না -এইচআরডব্লিউ

Home Page » জাতীয় » আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আইনি মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে না -এইচআরডব্লিউ
বৃহস্পতিবার ● ৩০ জুলাই ২০২৬


লোগো -বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বঙ্গনিউজ: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, বিচারিক প্রক্রিয়ার এসব ঘাটতি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালে চলমান বিভিন্ন মামলায় তদন্ত, অভিযোগ গঠন এবং বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এইচআরডব্লিউর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তার, দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং আসামিপক্ষের আইনি প্রস্তুতির জন্য সীমিত সময় দেওয়ার মতো বিষয় আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে সেই বিচার অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ন্যায়বিচারের মানদণ্ড মেনে পরিচালিত হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, দুর্বল তদন্ত বা ইচ্ছামাফিক অভিযোগ এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের সুযোগ যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুমসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এইচআরডব্লিউর পর্যবেক্ষণে, কয়েকটি মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দিতে হুবহু একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, যা তদন্তের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

সংস্থাটি আরও বলেছে, বর্তমান আইনে প্রসিকিউশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তারের নির্দেশ, লিখিত কারণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটক রাখা এবং অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সুযোগ না থাকার মতো বিষয় রয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রমাণ প্রকাশের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিচার শুরু হওয়ার বিধান আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতিকে সীমিত করতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং তাদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রতিবেদনের শেষে সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে স্বচ্ছ তদন্ত, শক্তিশালী প্রমাণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় বিচারব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৬:১৮:০৮ ● ৮ বার পঠিত