রবিবার ● ১৬ আগস্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত

Home Page » জাতীয় » ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
রবিবার ● ১৬ আগস্ট ২০২৬


সংগৃহীত ছবি- ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত  বঙ্গনিউজ: ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলের কাছে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। ১৯৯২ সালেও এই উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। তখন ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসে ২৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে স্থানীয় সময় (শুক্রবার ২১:৫৮ GMT) ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।
এরপর আধা ঘণ্টার মধ্যে আরও তিনটি পরাঘাত বা আফটারশক হয়। এগুলো যথাক্রমে ৫.৯, ৫.৬ এবং ৬.১ মাত্রার ছিল ।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা BNPB এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে মাউমেরে বন্দরে একজন পুরুষ ও একজন নারী নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে ভূমিকম্পের পর ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। মাউমেরে অঞ্চলের আশপাশের এলাকাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূতত্ত্ব সংস্থা (BMKG)। সংস্থাটি বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে সরে উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
BNPB-এর কর্মকর্তা আবদুল মুহারি বলেন, ফ্লোরেসের উত্তর উপকূল, দক্ষিণাঞ্চল, দক্ষিণের দ্বীপগুলো এবং দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অবিলম্বে নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম Kompas TV-কে তিনি বলেন, বাসিন্দাদের উপকূল থেকে দূরে সরে যেতে হবে-হয় অন্তত দুই কিলোমিটার ভেতরের দিকে যেতে হবে, অথবা ১০ মিটার (৩৩ ফুট) এর বেশি উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে হবে।
USGS-এর হিসাব অনুযায়ী, ফ্লোরেস দ্বীপে ৫ লাখেরও বেশি মানুষ খুব শক্তিশালী কম্পন অনুভব করে থাকতে পারেন। এছাড়া আশপাশের বিস্তৃত অঞ্চলে আরও কয়েক মিলিয়ন মানুষ মাঝারি থেকে শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আরও আফটারশকের ঝুঁকি মূল্যায়ন অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়া ২৭ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস এবং প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এটি বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
এই একই উপকূলীয় অঞ্চলে এর আগে ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে একই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ফ্লোরেসে ২৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময়: ২১:০৩:৪৭ ● ১০ বার পঠিত