নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাড়া কমবে

Home Page » সংবাদ শিরোনাম » নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাড়া কমবে
বুধবার ● ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাড়া কমবে

 

 

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। তবে মূল বেতনের অংশ হিসেবে বাড়ি ভাড়ার হার কমবে। এ ছাড়া উচ্চ গ্রেডে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার কমবে। তবে চিকিৎসা, যাতায়াত, টিফিনসহ অধিকাংশ ভাতা বাড়বে। সব ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাতীয় বেতন কাঠামো-২০২৬ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রণয়নের কাজ করছে। গেজেটে এসব বিষয়ে তথ্য থাকবে। ২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা গ্রেডভেদে মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় এ হার কমিয়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ করা হচ্ছে। তবে মূল বেতনের অনুপাতে বাড়ি ভাতার হার কমলেও টাকার অঙ্কে বাড়বে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন ছাড়া দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার উপজেলায় বর্তমানে মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫৫ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। নতুন কাঠামোয় এসব এলাকায় ওই হার

 

৩০ থেকে ৫০ শতাংশ করা হচ্ছে। ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও সাভারের বাইরে কর্মরতদের বাড়ি ভাড়া বর্তমানে ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ। নতুন কাঠামোয় তা ২৫ থেকে ৪৫ শতাংশ হবে।

বাড়ছে চিকিৎসা, যাতায়াত ও মোবাইল ভাতা
বর্তমানে সব কর্মচারী মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় গ্রেডনির্বিশেষে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরিজীবীরা মাসে তিন হাজার টাকা এবং ৫০ বছরের বেশি থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সীরা চার হাজার টাকা পাবেন।

পেনশনারদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনাররা মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং ৭০ বছরের বেশি বয়সীরা ছয় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। বর্তমানে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনারদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার ৫০০ টাকা।

প্রথমবারের মতো সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোবাইল ফোন ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে এক হাজার ৫০০ টাকা মোবাইল বিল পান। চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা এক হাজার টাকা পান। অন্য গ্রেডের চাকরিজীবীরা এ সুবিধা পান না। নতুন কাঠামোয় প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মোবাইল ভাতা কমিয়ে মাসে ৫০০ টাকা করা হবে। আর ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাবেন মাসে ১৫০ টাকা।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতাও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলা নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কর্মরতদের পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশই থাকছে। তবে পার্বত্য জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা এবং সদরের বাইরের এলাকার জন্য পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। হাওর, দ্বীপ ও চরভাতাও মূল বেতনের ২০ শতাংশ বহাল রেখে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা করা হচ্ছে।

শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, কুক অ্যান্ড সিকিউরিটিজ অ্যালাউন্স, উৎসব ভাতা এবং শ্রান্তি, বিনোদন ছুটি ও ভাতার বিদ্যমান হার এবং পরিমাণ বহাল রাখা হচ্ছে। তবে ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পরিমাণ বিদ্যমান ভাতার তুলনায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেষণ ভাতা শতকরা হারে না দিয়ে টাকার অঙ্কে দেওয়া হচ্ছে; নতুন কাঠামোয় এটি মূল বেতনের ১০ শতাংশ হতে পারে।

বর্তমানে সব গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবী বছরে মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পান। নতুন কাঠামোয় এ অভিন্ন ব্যবস্থা থাকছে না। ২০তম থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল রাখা হচ্ছে। তবে পঞ্চম গ্রেডে ৪ শতাংশ, চতুর্থ ও তৃতীয় গ্রেডে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয় গ্রেডে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে। ক্যাপ্টেন ও সমতুল্য এবং তার নিচের পদে ৫ শতাংশ, মেজর পদে ৪ শতাংশ, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কর্নেল পদে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও সমপদে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৫ সালের বেতন কাঠামোতে সবার জন্য ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ছিল। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণে ২০২৪ সালে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করে সরকার। এটি প্রথমে ৫ শতাংশ ছিল। পরে ১০ শতাংশ করা হয়। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে আগের প্রণোদনা হবে।

পদোন্নতি ছাড়া উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ একই গ্রেড ১০ বছর থেকে কমিয়ে আট বছর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পদোন্নতি ছাড়া দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছয় বছর একই গ্রেডে থাকার শর্ত বহাল থাকবে। পদোন্নতিযোগ্য পদে থাকা চাকরিজীবীরা এভাবে সর্বোচ্চ দুইবার উচ্চতর গ্রেডে যেতে পারবেন। আর যেসব পদে পদোন্নতির সুযোগ নেই এবং ব্লকড পদ হিসেবে ঘোষিত, সেসব পদে চাকরিজীবীরা পুরো চাকরিজীবনে তিনবার উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নতুন বেতন কাঠামোর মূল বেতন চলতি বছরের জুলাই, আগামী ডিসেম্বর এবং পরবর্তী জুলাই– এই তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব ধরনের ভাতা পাওয়া যাবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে।

নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে এক লাখ পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছর অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, ২০২৭ সালে ৪৪ হাজার ৮৩৮ কোটি এবং ২০২৮ সালে ২৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।

বর্তমান কাঠামোয় চলতি অর্থবছর বেতন, ভাতা, পেনশন, আনুতোষিক ও লাম্পগ্রান্টে সরকারের ব্যয় এক লাখ ৩১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে এ ব্যয় চলতি অর্থবছরে বেড়ে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা হবে। আগামী অর্থবছরে তা দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি এবং ২০২৮ সালে সব ভাতা কার্যকর হলে দুই লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকায় দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০১:৩৩ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ