
নীরা তার স্বপ্ন বোনে ।
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো,
চরকা কাটা বুড়ি, মেঘগুলো তুলোর মতো উড়ে যাওয়া, আকাশে ভেসে বেড়ানো তারা, উল্কাপিন্ড তার স্মৃতিকে সবসময় জাগ্রত রাখে।
এখন সে আর বেশি মন খারাপ করে না।
সে এখন নতুন করে আবার স্বপ্ন বোনে, নতুন করে আবার পথ চলে।
যে মেঠো পথে হারিয়ে গিয়েছিল সেই সকল শৈশবের ঘ্রাণ মাখা স্মৃতি, সেই মেঠো পথের জন্য তার কখনো কখনো মন কাঁদে।
কিন্তু ফের মনে হয় আর কখনোই সেই পথে ফিরে যাওয়া হবে না এবং সেই পথকে সে ভুলে যেতেও পারে না।
জীবন বদলায়, পথের বাঁকে বাঁকে সকল স্মৃতি পড়ে থাকে।
কেবল ছুটে চলে জীবন সম্মুখের পানে।
এভাবেই আবার এগিয়ে যায়।
আর সে এখন কিছুকেই আর ভয় পায় না।
জীবন চলছে জীবনের মতো।
জীবনের হিসেব নিকেশ, করা অঙ্ক আর কষতে চায় না।
যেটা জীবন তাকে দিয়েছে তার থেকে বেশি কিছু সে আর চায় না।
সেই ধানের ক্ষেতের কোণে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা বক পাখি
যেমন জলের দিকে স্থির চোখে চেয়ে থাকে, শিকার ধরার নিঃশব্দ প্রতীক্ষায়।
নীরাও আজ ঠিক তেমনি এক নিস্তরঙ্গ অটল অপেক্ষায় বেঁচে আছে।
সে আর ছুটে বেড়ায় না নিয়তির পেছনে; যা আসে, তাতেই সে খুঁজে নেয় তার পূর্ণতা।
শৈশবের সেই মেঠো পথ আজ হয়তো অনেক দূরে, স্মৃতির পাতায় মোড়া ঝাপসা চিত্রপট।
কিন্তু সেই পথহারা ঘ্রাণ আজও তার ক্লান্ত দুপুরের ছায়ায় এসে ভর করে।
নীরা এখন আর সেই হারানো দিনের খোঁজে দীর্ঘশ্বাস ফেলে না
বরং জীবনের এই প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবের খাতা সে চিরকালের মতো বন্ধ করে দিয়েছে।
জীবন যেমন তার নিজের ছন্দে প্রবহমান, নীরা তেমনি সমস্ত ভয়ের বাঁধন ভেঙে স্রোতের সঙ্গে ভেসে চলেছে এক পরম আস্থায়।
তার এই প্রতীক্ষা কোনো অতৃপ্তি বা হাহাকারের নয়,
জীবনকে তার সমস্ত রূঢ়তা ও কোমলতা সমেত ভালোবেসে ফেলার এক শান্ত মুক্তি।