
প্রত্যকের লেখার বিশেষ ধরণ আছে। স্বকীয় বৈশিষ্ট্য। যেমন আমাদের অগ্রণী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক এবং রাজশাহী ডিভিশনের সাবেক প্রধান, সকলের পরিচিত ও প্রিয়মুখ কল্পনা সাহা। তাঁর লেখা ছিল শিক্ষনীয় ও সহজ সরল এবং প্রাঞ্জল। তিনি বোধ হয় শীত নিদ্রায় চলে গেছেন। আমরা তাঁর আরও লেখা দেখতে চাই এবং আশা পোষণ করি যে, অচিরেই বই আকারে সব লেখা বই মেলায় আসবে। লিখতেন মঞ্জ আরা সোনালী। ম্যাডামের লেখার হাত যে ভালো তা তিনি প্রমাণ রেখেছেন। কিন্তু বোধ হয় তিনিও কল্পনা ম্যাডামের মতো নিদ্রায় চলে গেছেন। আর একজন লেখক আছেন, জনাব জহিরুল ইসলাম। যিনি বিশেষ একটা ধরন লালন করেন। যদিও চাকরিরত থাকায় তার কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবুও তিনি লিখছেন। ছোট ছোট আকারে হলেও লিখে থাকেন। তার লেখার বিষয় বুঝতে হলে কঠিন কবিতার মতো আদ্যোপান্ত পড়তে হয়। উপস্থাপনা কৌশল বেশ ভিন্ন রকম। লেখা শুরু করেন কবি হোমার সেক্সপিয়ার মিল্টন বায়রণ থেকে শুরু করে আল মাহমুদ, জসিম উদ্দিন ,শামসুর রাহমান, আবার আহমেদ ছফা , আখতারুজ্জামান ইলিয়াস , অথবা নির্মলেন্দু গুণ বা রবীন্দ্রনাথ নজরুল বা বনলতা সেনের কবি জীবনান্দ দাশ দিয়ে। সব ঘেঁটে সুন্দর উপস্থাপনা নিয়ে লেখেন আসল কথাটি। লেখার শেষে বুঝতে পারা যায় যে, তার কোন বান্ধবীর জন্ম দিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। লেখার গতিপথ কোন দিকে যাবে তা আগেই বুঝা কঠিন। তিনি লাঠি হাতে নিয়ে যদি বলেন যে মাথা ফাটিয়ে দেবেন, হলে দেখা গেলো যে ঠ্যাং বাড়ি দিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। আর যদি বলেন যে ঠ্যাং ভাঙবেন , তাহলে মাথা ফাটিয়ে দেন। অর্থাৎ সকল লেখকই স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তায় সমুজ্জ্বল।
ইদানিং লিখছেন ফরিদপুরের মধুখালি নিবাসী বাবু অরুণ কুমার সরকার। তিনি কবিতা লিখতে সিদ্ধহস্ত। সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল অফিসার বাদল বিহারী চক্রবর্তী। তিনিও মাঝে মাঝে কবিতা লিখছেন। তবে আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমাদের “ রঙলেপার” একনিষ্ঠ ভক্ত, সদস্য ও কবি বাবু রাধাবল্লভ রায় গত ৯ অগ্রহায়ণ,১৪৩২, মোতাবেক ২৪ নভেম্বর,২০২৫ প্রয়াত হয়েছেন। তিনি ছিলেন লালমনির হাট জেলার অন্তর্গত হাতীবান্ধার লোক। তিনি দইখাওয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর বিদেহী আত্মার সদ্গতি কামনা করছি। তিনি স্বর্গবাসী হোন-এ প্রার্থনা জানাই।
জনাব আরেফিন আজাদের কথা এখানে অনুল্লেখ থাকতে পারে না। তিনি একজন Energetic, active habit Young Man of sixty eight. তাছাড়াও একজন সংগঠক ও সমাজকর্মী। তিনি কমবেশি লিখে থাকেন। অন্যদেরকে লিখতে উৎসাহিত করেন। গ্রামের সকলের ভালো খবর, মন্দ খবর সব গুরুত্ব দিয়ে লিখে থাকেন। গ্রুপেও লিখেন। জালাল স্যার সহ অনেকের দাবী উঠেছে, তিনি এবং জনাব হাসিব আরসান যেন তাদের ভোলা ও হাতিয়া ভ্রমণের উপর বিস্তারিত লিখেন। আমরাও একমত পোষণ করছি।
আরও লিখতেন আবুল শাদীদ আহমেদ শাদী। তিনি মুলত কবিতা লিখে থাকেন। তবে তার নাতনী আরিশার অসুস্থতা তাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। আরিশার দাদা-নানা উভয় পক্ষই আজ অন্তহীন আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। আমাদের গ্রুপের সকলে এই অবুঝ শিশুটির জন্য কাতর থাকছি। এক্ষেত্রেও ছানাপোনার মার উদার মন বড় বেদনা কাতর হয়েছে। ছানাপোনার মা গ্রুপে একটি ব্যানার দিয়ে শিশুটির জন্য সম্ভাব্য সহযোগীতার জন্য এবং আরোগ্য কামনা করার আবেদন করেছেন।
মাঝে মাঝে ভালো কবিতা উপহার দেন জনাব ইফতেখার আলম। ভালো কবিতা লিখে উপহার দিচ্ছেন অগ্রণী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রঞ্জন সরকার। তিনি ”রঞ্জন শিশির” নামে লিখছেন। আর একজন উদীয়মান তরুণ কবি অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার জনাব অরিন্দম খালেদ রবি। আমরা তাকে অনুরোধ জানাই ,তার লিখা যেন নিয়মিত আমাদের ”রঙলেপা” গ্রুপেও পোস্ট করেন। ভারতেরও স্বনামধন্য লেখিকা আছেন দু;একজন। তাঁদের মধ্যে -KumKum Bhattacharya ও Manijinjiril Sanyal এর নাম উল্লেখ্য। রঙলেপার সাথে জড়িয়ে আছে আর একটি নাম। তিনি ড. রফিকুল ইসলাম। রাজশাহী ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। তিনি জনাব জালাল উদ্দিন মাহমুদের বইয়ের পাঠক নন্দিত প্রচ্ছদ উপহার দিয়েছেন। আছেন Talukder poly, Hosne Ara Jahan & Nazlin Sultana Nila. ওনাদের উপস্থিতি সব সময় প্রাণোবন্ত করে রাখে গ্রুপকে। ( চলবে ) নিচে বাবু রাধাবল্লভ রায়ের ছবি দেওয়া হলো।
