যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কী আছে জানাল সরকার

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কী আছে জানাল সরকার
সোমবার ● ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে কী আছে জানাল সরকার

দীর্ঘ ৯ মাসের ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনা শেষে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক শুল্ক-সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ তার গড় শুল্কহার ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

গতকাল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। চুক্তিতে কেবল শুল্ক নয়, বরং পণ্য, সেবা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, বাণিজ্য সহজীকরণ, রুলস অব অরিজিন, স্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষা, কারিগরি বাধা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, সরকারি ক্রয়, শ্রম, পরিবেশ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা, পারস্পরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আগে থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তিতে অনুস্বাক্ষরকারী। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তিতে নতুন কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়নি।

চুক্তিতে তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও কৃত্রিম সুতা আমদানি করে তা দিয়ে তৈরি পোশাক সে দেশে রপ্তানি করলে ‘শূন্য শুল্ক’ বা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই তৈরি পোশাক, যার ওপর ১৯ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হবে না, যদি কাঁচামাল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা হয়।

একইভাবে চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ২৫০০টি পণ্য শূন্য শুল্ক সুবিধা পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কৃষিপণ্য, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঠজাত পণ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী। এ ছাড়া বাংলাদেশ তার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের জন্য ৭১৩২টি ট্যারিফ লাইন/এইচএস কোড অফার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ৪,৯২২টি ট্যারিফ লাইনে চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই শুল্কমুক্ত সুবিধা (এর মধ্যে ৪৪১টি আগেই শূন্য শুল্ক ছিল) পাবে। ১৫৩৮টি ট্যারিফ লাইনে ৫ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক শূন্যে নামানো হবে (প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ হ্রাস, পরবর্তী চার বছরে বাকি ৫০ শতাংশ সমান হারে)। ৬৭২টি ট্যারিফ লাইনে শুল্ক শূন্য করা হবে ১০ বছরের মধ্যে (প্রথম বছরে ৫০ শতাংশ হ্রাস, পরবর্তী ৯ বছরে ৫০ শতাংশ সমান হারে)। তবে ৩২৬টি ট্যারিফ লাইনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়নি।

চুক্তিতে পেপারলেস ট্রেড, মেধাস্বত্ব অধিকার (আইপিআর) প্রয়োগ জোরদার এবং ই-কমার্সে স্থায়ী মরাটোরিয়াম সমর্থনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এ ছাড়া মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত ৯টি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাবে বাংলাদেশ সম্মতি দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফার্মাসিউটিক্যালস পণ্য আমদানিতে এফডিএ সনদের ভিত্তিতে পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুমোদনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কৃষিপণ্য, দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রি আমদানিতে মার্কিন সনদ গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক এসপিএস ব্যবস্থা স্বীকৃতির কথা বলা হয়েছে। উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া ২৪ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার অঙ্গীকারও রয়েছে।

বীমা, তেল, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগ খাতে মার্কিন বিনিয়োগে ইকুইটি সীমা উদারীকরণ, দুর্নীতিবিরোধী বিধান প্রয়োগ এবং ডব্লিউটিওর মৎস্য ভর্তুকি চুক্তি গ্রহণের বিষয়গুলো চুক্তিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুযায়ী শ্রম আইন এবং পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সিবিপিআর, পিআরপি ও পিডিপিও স্বীকৃতির পাশাপাশি বোয়িং উড়োজাহাজ, এলএনজি, এলপিজি, সয়াবিন, গম ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বৃদ্ধির প্রচেষ্টার বিষয়গুলো খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মালয়েশিয়া বা কম্বোডিয়ার মতো চুক্তিতে ডিজিটাল বাণিজ্য নিয়ে মার্কিন পরামর্শের যে শর্ত ছিল, বাংলাদেশের চুক্তিতে তা নেই।

চুক্তির রুলস অব অরিজিনে কোনো নির্দিষ্ট ভ্যালু অ্যাডিশনের পরিমাণ উল্লেখ না থাকায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া সহজ হবে। তবে এই চুক্তির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে চুক্তি বাতিলের সুযোগ না থাকলেও বাংলাদেশের অনুরোধে এতে একটি ‘এক্সিট ক্লজ’ বা চুক্তি বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:২৫:৫০ ● ৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ