স্বাগতিক মেক্সিকোর দুর্দান্ত বিশ্বকাপ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে এল ত্রি। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে স্বাগতিকরা, আর সেই ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন মিলেছে স্কোরলাইনে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। দ্রুত পাসিং, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং ধারাবাহিক আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধেই দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ইকুয়েডর। দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল কিছুটা বাড়িয়ে একের পর এক আক্রমণ গড়লেও মেক্সিকোর সুসংগঠিত রক্ষণ তাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। কর্নার, ক্রস কিংবা দূরপাল্লার শট—কোনো পথেই গোলের দেখা পায়নি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে আরও কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করে মেক্সিকো। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে দ্রুতগতির এক আক্রমণ থেকে তৃতীয় গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে নিখুঁত পাস ও ফিনিশিংয়ের অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে ২-০ গোলের জয় নিয়েই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ম্যাচের শেষদিকে ইকুয়েডরের হতাশা আরও বাড়ে। অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দল নিয়েই ম্যাচ শেষ করতে হয় ইকুয়েডরকে।
এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে অনন্য এক কীর্তি গড়েছে মেক্সিকো। টানা চারটি ম্যাচ জিতে একটিও গোল হজম করেনি তারা। ১৯৯০ সালে ইতালির পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে এমন রক্ষণাত্মক সাফল্যের নজির গড়ল মেক্সিকানরা।
স্বাগতিকদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে দারুণ ছন্দে থাকা ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো নকআউট পর্বেই। লড়াই করেও মেক্সিকোর শক্ত রক্ষণ ভাঙতে না পারায় হতাশার বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।