ব্যয় সংকোচনে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল

Home Page » জাতীয় » ব্যয় সংকোচনে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল
বুধবার ● ১ জুলাই ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজ বাতিল করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নেওয়া এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকারি ব্যয় কমানোর নীতির অংশ হিসেবেই এবার বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ আয়োজন করা হয়নি। তিনি বলেন, জনগণের অর্থ সাশ্রয় এবং সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নিতেন। তবে এবার সেই দীর্ঘদিনের আয়োজন থেকে বিরত থাকল সরকার।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে এনেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-য় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া গেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু আপ্যায়ন খাতেই ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।

আতিকুর রহমান রুমনের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খাবার সরবরাহ করলেও সেই সময়ের বিপুল পরিমাণ বিল এখনো বকেয়া রয়েছে, যা বর্তমান সরকার ধাপে ধাপে পরিশোধ করছে।

তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার মধ্যেই তিনি সংসদ ভবনে পৌঁছান এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোটগ্রহণসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন এবং জরুরি নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

সরকারের দাবি, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী প্রশাসন গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৩৬:১১ ● ১৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ