
জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আঁচ এখন ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, গণপরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া, শিল্পে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পুরো অর্থনীতিতে যে শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, তার সবটুকু ভার এসে পড়ছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “জ্বালানির সংকট যতদিন চলবে, ততদিন আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকব। তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু একটি খাতে চাপ নয়, এটি উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ায় — আর শেষমেশ সেই বোঝা গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপরেই।”
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যও বলছে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কৃষিতেও এর প্রভাব পড়েছে — ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচ ও চাষাবাদের খরচ বেড়েছে, কমে গেছে কৃষকের লাভ।
রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে মাছ-মাংস সবকিছুতেই দাম বেড়েছে। পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৬০-৮০, শিম ও শজিনা ৮০-১২০, ঝিঙ্গা-করলা-বরবটি ৮০-১০০, কাঁকরোল ১২০-১৩০, কাঁচা মরিচ ৮০-১০০, টম্যাটো ৫০, বেগুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলু ২০-২৫ ও পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও মাঝারি লাউ প্রতিটি ৮০-১০০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৭০-১৮০ ও সোনালি মুরগি ৩৫০-৩৬০ টাকায় উঠেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ট্রাক ও পিকআপ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় কম দামে পণ্য বিক্রি করার উপায় নেই।
বৃহস্পতিবার সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আন্তজেলা বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে প্রতি টিকিটে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি আদায় করছে একটি চক্র।
যাত্রী আলতাফ হোসেন জানান, ঝিনাইদহ যেতে আগে ৫০০ টাকা লাগত, এখন ৭৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। দরকষাকষি করে ৬৫০ টাকায় টিকিট কাটতে হয়েছে তাকে।
শুধু আন্তজেলা নয়, রাজধানীর ভেতরেও বাড়তি ভাড়া আদায় চলছে। মিরপুর-১০ থেকে গাবতলী রুটে নির্ধারিত ভাড়া ২০ টাকা হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। মিরপুর-১০ থেকে কুড়িল পর্যন্ত ২০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০ টাকা।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “ভাড়ার তালিকা তৈরি থেকে মনিটরিং পর্যন্ত সব কিছুই পরিবহন মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণে। যাত্রীদের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।” তিনি আরও জানান, পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় বাস রং করে নতুন সাজিয়ে রাস্তায় চালানো হচ্ছে, অথচ যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।