
ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রস্তাবে এমন কিছু দাবি রয়েছে যা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে আলোচনা ভেঙে পড়লে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই। তারা এমন কিছু দাবি করছে, যেগুলোতে আমি রাজি হতে পারি না।” তবে ঠিক কোন বিষয়গুলো তিনি গ্রহণ করতে পারছেন না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করেন, খুব দ্রুত এই যুদ্ধের ইতি টানা ঠিক হবে না। তাঁর যুক্তি, তাড়াহুড়ো করে চুক্তি হলে কয়েক বছরের মধ্যেই আবার নতুন সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপের পথও খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আলোচনা এখন কার্যত থমকে আছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠকেও কোনো কার্যকর কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠালেও ওয়াশিংটন তাতে সন্তুষ্ট নয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের “হুমকিমূলক ভাষা” পরিবর্তন করে, তবে তেহরান আলোচনায় আগ্রহী। দুই পক্ষের মধ্যে বিশেষত পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য এখনো অটুট রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে বড় আঘাত। বর্তমানে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী সমাধান এখনো দিগন্তে দেখা যাচ্ছে না।
দুই পক্ষের কেউই পিছু হটতে রাজি নয়, আলোচনাও এগোচ্ছে না — এই অচলাবস্থাই এখন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।