
দেশের তৃণমূলের কামার-কুমার, তাঁতি ও ক্ষুদ্র শিল্পীদের পণ্যকে বৈশ্বিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) আয়োজিত ‘স্টেপিং ফরওয়ার্ড: দ্য ইনঅগুরেশন অব রেইজ-২’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমরা ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়ন করতে চাই।” উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বরিশালের শীতল পাটিকে যদি ডিজাইন সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অ্যামাজন বা আলিবাবার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া যায়, তবে এটি জিডিপিতে বড় অবদান রাখতে পারে।
শুধু কৃষি বা পোশাক নয় — থিয়েটার, ক্রীড়া ও সংগীতকেও পূর্ণ শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে জিডিপিতে এগুলোর অবদান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারি অর্থের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, এখন থেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হবে কেবল তখনই, যখন সেটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগের বিপরীতে সুফল এবং পরিবেশ সুরক্ষার শর্তগুলো পূরণ করবে। অতীতে অপরিকল্পিতভাবে নেওয়া অলাভজনক প্রকল্পগুলো বর্তমানে পর্যালোচনা বা বাতিলের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
‘ইকোনমিক ডেমোক্র্যাটাইজেশন’ বা অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র কেবল রাজনীতিতে থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের সমান অধিকার থাকতে হবে। আমাদের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে জাতীয় অর্থনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া।”
অর্থমন্ত্রী জানান, পরিবারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় নারীদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে সরাসরি ক্যাশ ট্রান্সফারের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে চাহিদা বৃদ্ধি ও সঞ্চয় প্রবণতা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সরাসরি ইনপুট সহায়তা এবং স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।
পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ডিভিশন ডিরেক্টর ড. গাইলি এইচ মার্টিনসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।