বঙ্গনিউজ: পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্থানগুলোতে মাইক বা লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মাইকের শব্দ যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমার বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, নির্ধারিত ডেসিবেলের বেশি মাত্রায় লাউডস্পিকার বাজলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এরপরও কোথাও যদি জোরে মাইক বাজে, আর তা কোনো ধর্মীয় স্থান থেকে হয়, তবে জোর জবরদস্তি না করে আলোচনার মাধ্যমে শব্দ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দুর্গাপূজা, ঈদ বা কোনো কমিউনিটির বিশেষ উৎসব ছাড়া রোজ রোজ মাইক বাজানো হলে, সেই আওয়াজে আশপাশের মানুষের অসুবিধা হয়। তাই যাতে মাইকের আওয়াজ সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বাইরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে। তবে শক্ত হাতে নয়, বুঝিয়ে করতে হবে
তার এই নির্দেশনা সব ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে কলকাতার নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসির ইব্রাহিম বলেন, আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।
অল ইন্ডিয়া ওরিয়েন্টাল একাডেমির প্রিন্সিপাল জয়ন্ত কুশারি বলেন, প্রার্থনা মূলত ব্যক্তিগত ও আধ্যাত্মিক বিষয়। কোনো ধর্মগ্রন্থেই লাউডস্পিকার বাজানোর কথা বলা হয়নি। সবাইকে অবশ্যই জনসাধারণের সুবিধা ও অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান রক্ষা করে চলতে হবে।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের এই নির্দেশনার সঙ্গে অনেকেই উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মডেলের মিল খুঁজে পাচ্ছেন। যোগী আদিত্যনাথ উত্তর প্রদেশের ধর্মীয় স্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাউডস্পিকার ব্যবহারে কড়াকড়ি জারি করেন। প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে অবৈধ লাউডস্পিকার খুলে ফেলারও নির্দেশ দিয়েছে যোগী প্রশাসন।
ডিডি/কেএএ/