
কাতারের রাজধানী দোহায় চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর নাকচ করেছে ইরান। তবে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিতও দেয়নি দেশটি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেছেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কারিগরি বৈঠকের সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে এ ধরনের বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত খবর সঠিক নয়।
তবে তিনি জানান, কাতারের সঙ্গে ইরানের আলোচনা নিয়মিত চলছে। শুরুতে এসব আলোচনার মূল বিষয় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই সংকট নিরসনই আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। ইরানের দাবি, যে কোনো পরিস্থিতিতেই তারা প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। তেহরানের ভাষ্য, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতেই তাদের এই অবস্থান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌপথ অবাধ ও নিরাপদ থাকতে হবে এবং এর নিয়ন্ত্রণ এককভাবে কোনো দেশের হাতে থাকা উচিত নয়।
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহাম্মদ ভাল জানান, ইরান সাধারণত এ ধরনের কূটনৈতিক বৈঠকের বিষয়ে শেষ মুহূর্তে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। তাই পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে আপাতত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা অস্বীকার করেছে তেহরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে আলোচনায় বসার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাধান চায় ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, নতুন আলোচনা শুরুর আগে সমঝোতা স্মারকের সব ধারা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওমান উপকূলের কাছে বিকল্প নৌপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি। তেহরানের মতে, ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থাপনায়ও তাদের ভূমিকা থাকা উচিত।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে পরিস্থিতির ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিবিড় নজর রাখছে।
**তথ্যসূত্র:** আল জাজিরা।