
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সামরিক স্থাপনায় সফলভাবে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইআরজিসি জানিয়েছে, ইরানের সিরিক ও কেশম অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের আগের হামলার জবাবে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক নজরদারি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং সমুদ্রে মাইন পাতা সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করে, সিরিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করতে পারেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিয়ম ভঙ্গকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ইরান ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ভবিষ্যতে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
**তথ্যসূত্র:** আল জাজিরা, আইআরআইবি ও দ্য ডন।