মধ্যনগরে স্বাস্থ্যসেবা যেন ‘অমাবস্যার চাঁদ’

Home Page » সারাদেশ » মধ্যনগরে স্বাস্থ্যসেবা যেন ‘অমাবস্যার চাঁদ’
মঙ্গলবার ● ২৮ জুলাই ২০২৬


ফাইল ছবিআল-আমিন সালমান:প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত উপজেলা মধ্যনগর। সারাদেশ যখন উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মৌলিক অধিকার চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এই উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ। পুরো উপজেলায় নেই কোনো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় জেলা সদর বা পাশের উপজেলায়।

হাওর-নদী বেষ্টিত এই উপজেলাটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শুষ্ক মৌসুমে দুই চাকার যান আর বর্ষায় নৌকা। যাতায়াতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়ে প্রায়ই বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। এতে মুমূর্ষু রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৫ জুলাই চারটি ইউনিয়ন নিয়ে মধ্যনগর উপজেলা ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালের ২৬ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মিত হয়নি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নেই কোনো এমবিবিএস চিকিৎসকও। ফলে দেড় লক্ষাধিক মানুষ বাধ্য হয়ে ভরসা করছেন হাতুড়ে ডাক্তার, কবিরাজ ও ক্যানভাসারদের তাবিজ-কবজের ওপর। মধ্যনগর এখন দেশের একমাত্র উপজেলা, যেখানে কোনো সরকারি চিকিৎসক বা হাসপাতাল নেই। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবা এখন ‘অমাবস্যার চাঁদ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালে তৎকালীন মধ্যনগর থানার বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার জন্য সরকার ‘মধ্যনগর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ এবং ‘দাতিয়াপাড়া ফুলেন্নেছা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র’ নির্মাণ করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে এমবিবিএস চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও শুরু থেকেই পদগুলো শূন্য।

টাঙ্গুয়ার হাওরের পশ্চিম প্রান্তের গ্রাম রংচীর বাসিন্দা আব্দুল মান্নান তালুকদার (৬০) বলেন, ‘আমরা এমন এক এলাকায় থাকি, যেখানে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। সুচিকিৎসার অভাবে আমাদের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে হয়।’

সীমান্তবর্তী বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সদস্য শিবিলা বানাই (৭০) আক্ষেপ করে বলেন, ‘অসুস্থ হলে ডাক্তার পাই না। বাধ্য হয়ে গ্রাম্য ওঝা বা কবিরাজের কাছ থেকে তাবিজ নিতে হয়। এভাবেই চিকিৎসার অভাবে আমাদের অনেক মানুষ প্রাণ হারান।’

বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হরিনাকান্দি গ্রামের গৃহবধূ মার্জিয়া আক্তার (২৩) বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়তে হয় গর্ভবতী নারী ও শিশুরা অসুস্থ হলে। নূন্যতম চিকিৎসাসেবা না থাকায় প্রসবকালীন ঝুঁকিতে থাকেন মায়েরা।’

সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন,’ মধ্যনগর একটি নতুন উপজেলা। সে হিসেবে এই জনপদ  দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শিঘ্রই  মধ্যনগরে ১০১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শুরু হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ২১:৪৮:৩১ ● ৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ