নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি

Home Page » জাতীয় » নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি
শুক্রবার ● ২৮ আগস্ট ২০২৬


সংগৃহীত ছবি-নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস  বঙ্গনিউজ: নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টি হয়ে নেপাল–তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ পানি জমা হওয়ায় যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে চীন।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছে। আগামী তিন দিনে সেখানে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি নেমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হ্রদটি নেপালের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর মিলনস্থলের কাছে তৈরি হয়েছে। নদী দুটি তিব্বত থেকে উৎপত্তি হয়ে নেপালে প্রবেশের আগে একত্রিত হয়েছে। নেপালের ভেতরে এই প্রবাহ ভোটেকোশি নামে পরিচিত, যা পরে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে বন্যার কৃত্রিম মডেলও তৈরি করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। প্রবল স্রোতে তিমুরে ও স্যাপ্রুবেসি এলাকার সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানি পরে ভাটির দিকে ত্রিশূলী নদী বরাবর ছড়িয়ে পড়ে।

ইতোমধ্যে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ভাটির কয়েকটি জেলা থেকে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করা হচ্ছে। নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রধান কয়েকটি মহাসড়কে যান চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদটির পানির উচ্চতা ও প্রবাহের গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।ৎ

হ্রদটি হঠাৎ ভেঙে গেলে ভাটির দিকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে আসতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী জনবসতি, সড়ক ও অবকাঠামো নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৪:৩৮ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ