বঙ্গনিউজ: বর্তমানে বলতে গেলে প্রায় প্রতি ঘরেই একটি সমস্যা ব্যপকভাবে বিস্তার লাভ করে চলছে। তা হলো প্রিয় সন্তানের মাদকাসক্ততা। এমন নীরব এক ঘাতক সমস্যা নিয়ে এবং লোকলজ্জার আশংকায় অনেক পরিবার আজ ম্রিয়মান। অনেক পরিবার জানেনা কি করতে হবে। কিছু পরিবারে নিহত হবার সংবাদও অতীতে দেখা গেছে।
সন্তানের আচরণে হঠাৎ কোনো পরিবর্তন দেখেই তাকে মাদকাসক্ত হিসেবে চিহ্নিত না করে পুরো পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কৈশোরে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের কারণে এমন সংকট তৈরি হতে পারে, যা অনেক সময় পড়াশোনার চাপ, উদ্বেগ বা বিষণ্নতাজনিত সমস্যারও বহিঃপ্রকাশ। তাই আচরণগত একাধিক অস্বাভাবিক পরিবর্তন যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তবেই অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে সন্তানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা, ভয় দেখানো বা শারীরিক শাস্তি দেওয়া সংকটকে আরও জটিল করে তোলে। সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা ও নিরাপদ পরিবেশে কথা বলে তার মানসিক অবস্থা বা দৈনন্দিন সমস্যা বোঝার চেষ্টা করা জরুরি। সন্দেহ দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসক বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে বিষয়টিকে একটি স্বাস্থ্যগত ও আচরণগত সমস্যা হিসেবে সমাধান করতে হবে।
আচরণগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিবার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, অল্পতেই অতিরিক্ত রাগ বা আক্রমণাত্মক আচরণ এবং পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। এছাড়া ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় উদাসীনতা, নির্দিষ্ট সময়ে বাইরে যাওয়ার প্রবল অস্থিরতা এবং মোবাইল ফোন, ব্যাগ বা নিজের চলাফেরা নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রাখাও বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। তাছাড়াও অকারণে সন্দেহপ্রবন হয়ে পড়াও একটি লক্ষণ।
শারীরিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে যাওয়া, চোখ লাল থাকা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং ক্ষুধামন্দা বা ওজনে দ্রুত পরিবর্তন। এর পাশাপাশি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি টাকার দাবি করা, ঘরে থাকা অর্থ বা জিনিসপত্র নিখোঁজ হওয়া, বন্ধুমহলে আকস্মিক পরিবর্তন কিংবা ঘরে সন্দেহজনক গন্ধ বা অচেনা উপকরণের উপস্থিতি লক্ষ্য করলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা উচিত।