বঙ্গনিউজ: ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বহিষ্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন দাবিতে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। আজ দুপুরে রাজধানীর শাহজাদপুরের বাঁশতলা এলাকায় প্রগতি সরণিতে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেওয়া হয়।
বাধার মুখে পড়ে ওই স্থানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতারা। সেখান থেকে আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে নতুন কর্মসূচি শুরুর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শাহজাদপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কনফিডেন্স সেন্টারের সামনে জড়ো হন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। পরে সেখান থেকে একটি মিছিল নিয়ে গুলশানে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রোধ করে। ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তারা সড়কের এক পাশে যান চলাচলের সুযোগ রেখে অবস্থান নেন এবং সমাবেশ শুরু করেন।
সমাবেশে দলটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান অভিযোগ করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাদের সেখানে যেতে দেয়নি।
তিনি জানান, আগামী ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রত্যাহার, শেখ হাসিনাকে ফেরত প্রদান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অসম চুক্তি বাতিল ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি পূরণ করা না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে ভারতীয় পণ্য বর্জনসহ নতুন কর্মসূচি পালন করা হবে।
বক্তব্যে তিনি বর্তমান আঞ্চলিক ভূরাজনীতি, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও ট্রানজিট নীতি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন ভূমিকার সমালোচনা করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভারসাম্যপূর্ণ সহযোগিতার আহ্বানও জানান তিনি।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ফরিদ উদ্দিন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও গালীব ইহসান, কেন্দ্রীয় সদস্য সাকিব সামিন, সাইদুল ইসলাম, জয়নুল আবেদিন এবং বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ।