কারা এমন বারো বর্জ্যমানব ?

Home Page » সংবাদ শিরোনাম » কারা এমন বারো বর্জ্যমানব ?
বুধবার ● ২৮ অক্টোবর ২০২৬


কারা এমন বারো বর্জ্যমানব ?

কারও শরীরের পুরোটাই ঢেকে আছে বোতল, মগ, ছোট বালতিসহ প্লাস্টিকের নানা পণ্যে। কারও শরীরজুড়ে প্লাস্টিকের থালা। কেউবা আবার পরে আছেন নানা ইলেকট্রনিক বর্জ্য। এমন ১২ জন ‘বর্জ্যমানব’ দৌড়ঝাঁপ করছেন সমুদ্রসৈকতে। তাঁদের ঘিরে রয়েছেন নানা বয়সী পর্যটকেরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ মুঠোফোনে করছেন ভিডিও ধারণ।

আজ বুধবার সকাল আটটার দিকে এমন চিত্র দেখা গেল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট। ‘বর্জ্যমানব’ সেজে এভাবেই সাগরদূষণ নিয়ে পর্যটকদের সচেতন করা হয়। সাগর থেকে কুড়িয়ে আনা বর্জ্যে ‘বর্জ্যমানব’ সাজেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবীরা।প্লাস্টিক ও পরিবেশদূষণের বিষয়ে সচেতন করতে আজ সকালে কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। এতে অংশ নেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শোভাযাত্রাতে অংশ নেন ১২ ‘বর্জ্যমানব’। তাঁরা সমুদ্রসৈকতে দৌড়ে পর্যটকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন ‘সৈকত আমাদের অমূল্য সম্পদ, সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করুন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না, প্লাস্টিক ব্যবহারে সচেতন হোন’।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। তিনি বলেন, গত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। এখনো লাখো পর্যটক রয়েছেন। পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিকে সাগর দূষিত হয়। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলতে প্রচারণা চালানো হয়েছে। শোভাযাত্রায় থাকা ১২ ‘বর্জ্যমানব’ পর্যটকদের উদ্দেশে সচেতনতামূলক বার্তা দিতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সৈকত ভ্রমণে আসা মানুষজনের অনেকে বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। বিশেষ করে প্লাস্টিক। এসব সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে দূষণ সৃষ্টি করছে। বালুচরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য অসংখ্য ডাস্টবিন রাখা হলেও অনেকের সেদিকে নজর থাকে না। প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখাতে ১২ জন নারী-পুরুষ বর্জ্যমানব সেজেছেন।’

এর আগে ১২ অক্টোবর সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বর্জ্য দিয়ে নির্মিত ৫০ ফুট উচ্চতার এক ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয়। এটিও নির্মাণ করে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা এই বর্জ্য ভাস্কর্য দেখছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৯:৫৫ ● ৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ