জাল নথি ব্যবহার করে ভারতের সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানি নাগরিক!!

Home Page » জাতীয় » জাল নথি ব্যবহার করে ভারতের সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানি নাগরিক!!
বৃহস্পতিবার ● ৩ আগস্ট ২০২৩


ভারতের সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানী নাগরিক, তদন্ত করবে সিবিআই

বঙ্গ-নিউজ: জাল নথি ব্যবহার করে ভারতের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ হয়েছে। দেশটির সেনাবহিনীতে পাকিস্তানের দুই নাগরিক কর্মরত রয়েছেন, এমন অভিযোগে করা মামলার তদন্তে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) এক প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।

দেশটির সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানি গুপ্তচর ঢুকে পড়ার অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি প্রাথমিক তদন্ত করেছিল সিবিআই। গতকাল বুধবার হাইকোর্টে সে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গোয়েন্দা সংস্থাটি। তাতে জাল নথি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানি নাগরিকের ঢুকে পড়াসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। প্রতিবেদন দেখে হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সিবিআইকে এ বিষয়ে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে সিবিআই জানিয়েছে, একাধিক প্রমাণে দেখা গেছে, জাল নথির মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বেআইনি নিয়োগ হয়েছে। অন্তত চারজনের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিয়োগের কথা জানা গেছে। তবে এর মাধ্যমে ঠিক পাকিস্তানি নাগরিকরাই সেনাবাহিনীতে ঢুকে পড়েছেন, এমনটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সেই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছে না তারা। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে করে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত এ ব্যাপারে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে সত্যিই পাকিস্তানি নাগরিক আছেন কি না, তা নিয়ে সিআইডিকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সিবিআইকেও বিষয়টি দেখতে বলা হয়। সে সময় আদালত বলেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে সব সংস্থাকে একযোগে কাজ করতে হবে।

ভারতের সেনাবাহিনীতে পাকিস্তানী নাগরিক

এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সিবিআই জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতসহ একাধিক রাজ্যে জাল নথি ব্যবহার করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে একজন মহকুমাপ্রশাসকের ওপর নজর রাখছে সিবিআই। পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে সংস্থাটি বলছে, জাল নথি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিক ঢুকে পড়ার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সার্বিকভাবে এর গুরুত্ব-প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি।

উল্লেখ্য, অভিযোগ উঠেছিল, উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরের সেনাছাউনিতে জয়কান্ত কুমার ও প্রদ্যুম্ন কুমার নামে পাকিস্তানের দুই নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। পাকিস্তান থেকে এসে তারা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। অন্যদের মতো যথারীতি সরকারি পরীক্ষা দিয়েই তারা নিয়োগ পেয়েছেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জাল করে চাকরি পেয়েছেন তারা। এই অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন হুগলির বাসিন্দা বিষ্ণু চৌধুরী।

সিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনাতেই এমন ভুয়া নিয়োগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আবার সেনাবাহিনীর বাইরে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীতেও এভাবে নিয়োগ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, অন্য রাজ্যেও এই নিয়োগের খবর পাওয়া গেছে। সিবিআইয়ের দাবি, যেখানেই এ ধরনের নিয়োগ হোক না কেন, এ ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা অবশ্যই জড়িত আছেন।

গতকাল এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের পর দেওয়া পর্যবেক্ষণে বিচারপতি সেনগুপ্ত বলেন, সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ব্যাপারে যেসব ছাড় দেওয়া হয়, সেগুলো ব্যবহার করে অন্য দেশের নাগরিকেরাও ঢুকে পড়তে পারেন। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত শুরু করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ২০:৫৯:০৬ ● ২১৩ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ