
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে তীব্র অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। দ্বিগুণ দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। নিত্যদিনের রান্নাবান্না নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ভোক্তারা। ছয়-সাত দোকান ঘুরে সিলিন্ডার জোগাড় করতে পারছেন না। দু-এক দিন আগেও যে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১,৮০০ থেকে ১,৯০০ টাকা, গতকাল তা অনেক এলাকায় ২,১০০ থেকে ২,৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১,৩০৬ টাকা।
বাড়তি দামের জন্য সরকার দায়ী করছে খুচরা বিক্রেতাদের। খুচরা বিক্রেতারা দায়ী করছেন পরিবেশকদের। পরিবেশকরা বলছেন, অপারেটররা দায়ী। অপারেটররা খুচরা বিক্রেতা ও সরকারের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ব্যবসায়িকভাবে বাড়তি মুনাফা করা হচ্ছে। অনেকেই জানিয়েছেন, দিনে সিলিন্ডার ‘নেই’ বলা হলেও রাতে বা পরিচিত গ্রাহকদের কাছে বেশি দামে দেওয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা আরও বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত শনি ও রোববার মগবাজার, রামপুরা, বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, কল্যাণপুর ও মিরপুর এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার নেই। যেসব দোকানে এলপিজি রয়েছে, তারা ১২ কেজির দাম চাইছে দুই হাজার টাকার ওপরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়ও একই অবস্থা।
ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, দুদিন ধরে কয়েকটা দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। শেষ পর্যন্ত দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে। গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা আজমল হক বলেন, ‘এক দোকানে গেলে বলে স্টক নেই, আরেক দোকানে লুকিয়ে বিক্রি করে। শেষ পর্যন্ত এক দোকান থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনলাম। কিন্তু রসিদ দেয়নি।’ সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে কল্যাণপুরের বাসিন্দা ওবায়েদ হোসেন বলেন, ‘সরকার দাম ঠিক করে, কিন্তু বাজারে সেই দাম নেই– এ দায় কে নেবে?’
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সমস্যার শুরু পরিবেশক পর্যায় থেকে। পাইকারিতে সরবরাহ কমছে, সেই সঙ্গে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরায় দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, শীতকালে বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ-সংকট ও আর্থিক জটিলতার কারণে ডিসেম্বরে আমদানি কমেছে। ফলে বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
তারা জানান, ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে। এর মধ্যে ২৩টি কোম্পানির আমদানির অনুমোদন আছে। যদিও এখন মূলত ছয়টি কোম্পানি বেশির ভাগ এলপিজি আমদানি করে। আরও চারটি সীমিত পরিসরে আমদানি করে। অন্যগুলো গত ডিসেম্বর মাসে এলপিজি আমদানি করেনি। সংস্থাটি গত রোববার এক বিবৃতিতে খুচরা বিক্রেতাদেরও সংকটের জন্য দায়ী করেছে।
এ
লপিজি ব্যবসায়ীরা সংকটের জন্য সরকারের দায়ও দেখছেন। তারা বলেন, কয়েকটি কোম্পানি আমদানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনেক দিন ধরে সরকারের কাছে দেনদরবার করলেও অনুমোদন মেলেনি। আর জ্বালানি বিভাগ বলছে, বাজারে এলপিজির মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে, খুচরা পর্যায়ের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, খুচরা বিক্রেতারা বাজারে সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালানো হবে।
মানিকগঞ্জে জরিমানা
নিয়মনীতির বাইরে বিক্রি ও রসিদ না দেওয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।