আজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি , কমতে পারে শুল্ক

Home Page » জাতীয় » আজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি , কমতে পারে শুল্ক
সোমবার ● ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


আজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি , কমতে পারে শুল্ক

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে আজ সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বহুল আলোচিত পাল্টা (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক-সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক দেশটির বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বিদ্যমান ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কমতে পারে।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটি দীর্ঘদিনের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ এবং সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়েই এগোনো হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে রয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে অনলাইন অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন উপদেষ্টা ও সচিব।
দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। অন্য সদস্যরা হলেন– যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উপদেষ্টা ঢাকায় বসেই চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর স্বাক্ষর করা কপি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে নিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

শুল্ক আরও কমার ইঙ্গিত

গতকাল রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বাড়তি ২০ শতাংশ শুল্ক আরও কমবে। তবে কতটুকু কমবে, তা এখনই তিনি বলতে চান না। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের মন্তব্য চলমান আলোচনায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক কমাতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। দুই পক্ষের সম্মতিতে চুক্তির শর্ত প্রকাশ করা হবে।

কেন এখন চুক্তি

নির্বাচনের ঠিক আগে এ উদ্যোগ কেন– এমন প্রশ্নে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের ঝুঁকি এড়াতেই সরকার এগোচ্ছে। বড় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে লাখো মানুষের চাকরি হুমকিতে পড়তে পারে। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বড় অঙ্কের ক্রয় প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।

নথি ফাঁস না হলে শুল্ক আরও কমানো সম্ভব ছিল

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে চুক্তির বিষয়গুলো প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিব্রত হয়েছে। তাঁর দাবি, তা না হলে শুল্ক ২০ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হতে পারত। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় জরুরি অবস্থার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক কাঠামোর মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা করছে, বাংলাদেশও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। সমঝোতা হওয়ার আগে তথ্য বাইরে গেলে দরকষাকষিতে অসুবিধা হয়।

উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ থেকেই আলোচনার নথি প্রকাশ হয়েছে। তবে তাতে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার মতো কিছু ছিল না। চুক্তি সই হওয়ার পর দুই পক্ষের সম্মতিতে তা প্রকাশ করা হবে বলে আবারও জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা।

বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা

আলোচনার অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন বশিরউদ্দীন। তাঁর ভাষ্য, এটি নতুন সিদ্ধান্ত নয়; আগে থেকেই প্রক্রিয়া চলছে। বিমানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ২০৩৫ সালের মধ্যে বহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উড়োজাহাজ যুক্ত করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যকর উড়োজাহাজ প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করছেন। দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এসব উড়োজাহাজ কিনতে সম্ভাব্য ব্যয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে অর্থ পরিশোধ দীর্ঘ মেয়াদে, কিস্তিতে হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩৬:০১ ● ৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ