রেলক্রসিংয়ে ১২ প্রাণহানি বাসটিকে দুমড়েমুচড়ে আধা কিলেমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন

Home Page » জাতীয় » রেলক্রসিংয়ে ১২ প্রাণহানি বাসটিকে দুমড়েমুচড়ে আধা কিলেমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন
রবিবার ● ২২ মার্চ ২০২৬


রেলক্রসিংয়ে ১২ প্রাণহানি বাসটিকে দুমড়েমুচড়ে আধা কিলেমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন

কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে উঠে যাওয়া বাসটি চলন্ত ট্রনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেছে। ট্রেন বাসটিকে সামনের দিকে টেনে অনেক দূরে নিয়ে যায়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, পদুয়ার বাজার থেকে ট্রেনটি বাসটিকে টেনে আধা কিলোমিটার দূরে দৌয়ারা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ট্রেনের সামনে বাসটিকে দুমড়ে মুচড়ে আটকে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, পিবিআই ও রেলওয়ে পুলিশ মোতায়েন আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘চলন্ত ট্রেন বাসটিকে সামনের দিকে টেনে অনেক দূরে নিয়ে যায়।’

শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এতে আরও ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী আহত হয়।

স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে লহ্মীপুরগামী মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেনের ধাক্কায় বাসটির ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দূর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাহেনাজ আক্তার বলেন, ‘রাত পৌনে তিনটায় আওয়াজ শুনে রেললাইনে আসি। তখন রেলের লোকজনই উদ্ধার শুরু করে। আহতদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। পরে আসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।’

আহত যাত্রীরা জানান, ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।

আহত যাত্রী তফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রচন্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।

ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অনেকবার ফোন দিলেও কেউ কল রিসিভ করেনি।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাস চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বলেন, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত চারটার দিকে। ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে আছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দু’জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে আমরা দুর্ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। ১১টার পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করবো।’

জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।

রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের সাথে রেলযোগাযোগ শুরু হবে। কার অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তা তদন্তের পর বলা যাবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৬:০৪:৩৯ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ