
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও গণপরিবহনের চালকরা। অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় খোলা স্টেশনগুলোতে বেড়েছে চাপ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না অনেকেই।
গতকাল শাহবাগ, তেজগাঁও ও আসাদগেট এলাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, জ্বালানি সংগ্রহে চালকদের দীর্ঘ সারি। স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটিতে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
শাহবাগের মেঘনা ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালক রেজা খান বলেন, ‘সকাল আটটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, তিন ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনও তেল পাইনি। ছুটির দিনেও এমন ভোগান্তি কল্পনা করিনি। তবে এখানে ৫ লিটার তেল দিচ্ছে, তাই এই পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।’
তেজগাঁওয়ের ব্যস্ত পাম্প ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই তেল সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সেখানে অপেক্ষমাণ রাশেদ খান বলেন, ‘লাইনে দাঁড়িয়ে পরে জানতে পারি তেল নেই। তবুও দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, যদি পরে আসে।’
তেল পাওয়ার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে যায়। আর মোটরসাইকেলের সারি দেখা যায় ফ্যালকন হলের কাছাকাছি।
পাম্প কর্মচারী শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘অনেকে মনে করেন আমরা ইচ্ছা করে তেল দিচ্ছি না, কিন্তু আসলে আমাদের কাছে সরবরাহ কম। সকাল থেকে না খেয়ে-দেয়ে ভিড় সামলাচ্ছি। তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ করতে হয়, তখন মানুষের ক্ষোভ আমাদের ওপরই পড়ে।’
একই চিত্র দেখা যায় আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনেও। সেখানে অপেক্ষমাণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সবুজ হোসেন বলেন, ‘কয়েকটা পাম্প ঘুরে দেখলাম, যেগুলোতে তেল আছে, সেখানে লম্বা লাইন। এখানে শুনলাম তেল দেবে, তাই দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনও চালু হয়নি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। এভাবে চলাচল করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
কিছু পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ চললেও সেখানে তেল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেকেই দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বন্ধ থাকা পাম্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। তেল শেষ হয়ে গেলে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ডিপো থেকে ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তারা।