
সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এ বছরের পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। প্রথম শিফটের পরীক্ষা চলে দুপুর ১টা পর্যন্ত, আর দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
এবার পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন।
পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার ও শিক্ষা প্রশাসন একাধিক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন্দ্রের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী রয়েছেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এছাড়া মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৮৬৯ জন।
এ বছর দেশের ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ৪০টি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে সারাদেশে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পরীক্ষার্থীদেরও সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা মেনে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।