পৌষের হিমেল রাত । শহরের ব্যস্ততা ধীর হতে শুরু করছে ভেজা বাতাস হিম হিম ভাব । হালকা কুয়াশার চাদর নামতে শুরু করছে । পৌষের এই হিম হিম বাতাসে রিকশার হুড ফেলে ঘুরতে ভালোবাসে সিলিকা ।
তবে আজকের দিনটা সেই !
সিটি কলেজের গেটের সামনে দাড়িয়ে সে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার প্রিয় মানুষটির জন্য কখন কোন সময়ে ক্লাস ছুটি হবে । ঠিক তার কিছুটা সময় পর ক্লাস ছুটি হলো উপস্থিত সাদা শার্ট পড়া তার প্রিয় মানুষটি সাদিক ।
সাদিক সরি, হঠাৎ তুমি দাড়িয়ে আছ কলেজ গেইটে ? সিলিকা কেন অপরাধ করছি ? না,বলছি কি তুমি তো তোমার কলেজে থাকার কথা । যাক আসছো তোমাকে ধন্যবাদ । সিলিকা তার কলেজের ব্যাগটি কাঁধে নিয়ে বলল চলো তোমার আজকে ছোট্ট একটি জরিমানা হবে ” ।
সাদিক মুচকি হাসি দিয়ে বললো গন্তব্য কোথায় ? হাতির ঝিল “।
রিকশা ডাকা হলো, হুট করে বসে হাতিরঝিল রওয়ানা হলো । হাতিরঝিল তখন মিটমিট আলো জ্বলে । কুয়াশার কারণে গাড়ির গতি অনেকটা কম, মানুষ গুলো আবছা আবছা দেখাচ্ছে ।
লেকের ঠান্ডা বাতাস চোখে মুখে লাগছে । উভয়ই বেঞ্চে বসলো । পাশে টং দোকান দুই কাপ গরম আদা-চা অর্ডার করা হলো, সাদিক বলল তোমার প্রিয় আদা-চা,
সিলিকা বলল এই কনকনে ঠান্ডায় এক চুমুক চায়ের চেয়ে দামী আর কিছু হতে পারে না, সাদিক ” ।
সাদিক সিলিকা কে বলল “ভুল ” বললে, এই
পাশে চায়ের চেয়েও দামী একজন বসে আছে । সিলিকা মাথাটা নিচু করে নিল।
উভয়ের রোমান্টিক নীরবতা দু’জনই চুপচাপ । চারপাশ ধেয়ে আসছে কুয়াশা, লোকে লোকারণ্য । দূর থেকে কানে ভেসে আসছে পাতার মর্মর শব্দে হালকা গানের সুর, সবথেকে যেন সবমিলিয়ে সময়টা থমকে গিয়েছে রাত তখন নয়টা কুয়াশা আরও ঘনীভুত ।
হিম হিম বাতাস বইছে, কুচকুচে আঁধারে জ্বলে ওঠছে চাঁদটা তারার মিটিমিটিতে জ্বলছে রাতটা । নকশি রঙিন চাদরে সাজিয়ে এক চিলতে হাসিতে ফুটে উঠুক গল্পটা । এক স্নিগ্ধ মায়াবী রুপে হিম হিম বাতাসে ভরে উঠুক সাজানো বাগিচা।