
অধিকৃত পশ্চিমতীরের উত্তরাঞ্চলের নূর শামস শরণার্থী শিবিরে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ফিলিস্তিনিদের বসবাসরত কমপক্ষে ২৫টি ভবন ভাঙ্গার কার্যক্রম শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে প্রায় ১০০টি ফিলিস্তিনি পরিবার বসবাস করতেন।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনের অংশ হিসেবে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক জানান, বুধবার ভোরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বুলডোজার ও ক্রেন দিয়ে ভবনগুলোকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এতে আকাশে ঘন ধুলোর কুণ্ডলি ছড়িয়ে পড়ে। বহু বাসিন্দা দূর থেকে দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখেন।
নিজের ভবন ভাঙ্গার সময় অনুভূতির কথা জানিয়ে মুতাজ মাহর বলেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি, পাড়া-প্রতিবেশী ও স্মৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
তিনি আরো বলেন, ‘দখলদার বাহিনী সব উপায়ে আমাদের ক্লান্ত ও চাপে ফেলতে চাইছে।’
নূর শামস শিবিরের জনপ্রিয় কমিটির সদস্য নিহায়া আল-জেন্দি জানান, চলতি বছরের শুরুতে সামরিক অভিযান শুরুর আগেই শত শত পরিবার তাদের ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘আজও শিবিরের দেড় হাজারের বেশি পরিবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি। এটি একটি বড় বিপর্যয়।’
নিহায়া আল-জেন্দি বলেন, বিশ্বের চোখের সামনে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য এটি এক ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগ।
নূর শামস শরণার্থী শিবিরটি দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি যোদ্ধা ও ইসরাইলি বাহিনীর সংঘর্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইলি বাহিনী পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিন শরণার্থী শিবিরে অভিযান শুরু করে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে এএফপি জানায়, ভবনগুলো ইসরাইল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিতে যাচ্ছে, সেখানকার বাসিন্দারা তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হন এবং অনেকেই জানান যে এ অবস্থায় আশ্রয় নেয়ার মতো তাদের কোনো জায়গা নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিমতীর দখল করে রেখেছে ইসরাইল। ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়ের জন্য নূর শামসসহ এসব শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠে, যা সময়ের সাথে সাথে ঘন জনবসতিতে পরিণত হয়েছে।