‘উন্নত পল্লীই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’— জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

Home Page » জাতীয় » ‘উন্নত পল্লীই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’— জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
সোমবার ● ৬ জুলাই ২০২৬


গ্রামবাংলার উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গ্রামবাংলার উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রগতির প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, উদ্ভাবনী চিন্তা ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই গড়ে উঠবে আধুনিক, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ পল্লী। আর সেই সমৃদ্ধ পল্লীই নির্মাণ করবে উন্নত, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

আগামীকাল ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গ্রাম ও পল্লীকেই জাতীয় উন্নয়নের মূলভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ, উন্নত পল্লী ছাড়া সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ উদযাপন সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। এবারের প্রতিপাদ্য—‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—সরকারের উন্নয়ন দর্শন, জনগণের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। কৃষি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কুটির শিল্প ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাই পল্লী উন্নয়ন শুধু একটি খাতভিত্তিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও গতিশীল ও টেকসই হবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ সালে ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, নারী উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, সমবায়ভিত্তিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কৃষি অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ চালুর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়নে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়েও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সে সময় গ্রামীণ সড়ক ও সেতু নির্মাণ, সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, কৃষিঋণ মওকুফ এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের মাধ্যমে পল্লী অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, জাতীয় প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষিঋণ মওকুফ, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

একটি স্বনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পল্লী গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাণীর শেষে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ দেশের পল্লী উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এ উপলক্ষে তিনি দেশের সব পল্লীবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বাংলাদেশ সময়: ৮:১৫:১৭ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ