বিএনপির প্রার্থীদের ৫০৭ কোটি টাকার হলফনামা

Home Page » প্রথমপাতা » বিএনপির প্রার্থীদের ৫০৭ কোটি টাকার হলফনামা
মঙ্গলবার ● ৬ জানুয়ারী ২০২৬


বিএনপির প্রার্থীদের ৫০৭ কোটি টাকার হলফনামা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ দেখিয়েছেন ফেনী-৩ আসনের আবদুল আউয়াল মিন্টু। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদমূল্য ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ১৮ হাজার ১৭১ টাকা। স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের সম্পদ যোগ করলে তা দাঁড়ায় ৬০৭ কোটি চার লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৯ টাকা।

বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে এ রকম শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক রয়েছেন আরও অন্তত ছয়জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা ও ব্যবসা দেখালেও তাঁর রয়েছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার সম্পদ। এ ছাড়া জালাল উদ্দিনের (চাঁদপুর-২) ২২০ কোটি টাকা, জাকারিয়া তাহের সুমনের (কুমিল্লা-৮) ২০৪ কোটি, মো. সফিকুর রহমান কিরণের (শরীয়তপুর-২) ১৭৭ কোটি, হারুনুর রশিদের (চাঁদপুর-৪) ১৬০ কোটি ও সাইদ আহমেদের (শরীয়তপুর-১) ১৫০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য মিলেছে। সারাদেশে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯২টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে ২৬৯ জনের হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে সমকাল।

হলফনামায় পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি ২২৩ জন, যা বিএনপির মোট প্রার্থীর ৮৩ শতাংশ। কোটি টাকার নিচে সম্পদ আছে এমন প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬। বিশ্লেষণে প্রার্থীর পেশার বৈচিত্র্যও দেখা গেছে। পেশার দিক থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন। এ ছাড়া আইনজীবী ২৯, প্রকৌশলী ২৪, শিক্ষক ২০, চিকিৎসক ১১ এবং কৃষিজীবী চারজন। চাকরি অথবা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন আটজন। এ ছাড়া গৃহিণী বা অন্য পেশায় আছেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা দুজন। একমাত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন।

এদিকে বার্ষিক আয়ের দিক থেকেও অনেক প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু শুধু অকৃষিজমি খাতেই বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন সাত কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাসের ৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতার এক কোটি ৬১ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খানের এক কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেনের বার্ষিক আয় এক কোটি ২৯ লাখ টাকা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে আটটি আসনে সমমনা জোট ও শরিক দলগুলোর প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করেছে বিএনপি। ২৯২টি আসন নিজের জন্য রাখলেও বিএনপি থেকে ৩৩১ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় আসন সংখ্যার চেয়ে দলীয় প্রার্থী বেশি হয়েছে। অবশ্য গত রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় দ্বৈত প্রার্থী থেকে একজনকে বেছে নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া বিএনপির অন্তত তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

শতকোটি টাকার সম্পদ
ফেনী-৩ আসনে আবদুল আউয়াল মিন্টুর হলফনামায় পেশা ব্যবসা। তাঁর স্থাবর সম্পত্তি ৩৩৩ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭০ টাকা এবং অস্থাবর ১৭৪ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ৪০১ টাকা দেখানো হয়। সেখানে স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালকেও ব্যবসায়ী উল্লেখ করে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৯৯ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৬৯৮ টাকা। এই প্রার্থীর নগদ অর্থ আছে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৪১ টাকা, স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৪ লাখ ২৪ হাজার ৯৪৫ টাকা। তাঁর শুধু অকৃষিজমি খাতেই বার্ষিক আয় সাত কোটি ১৫ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৫ টাকা।

চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর পেশা সাংবাদিকতা ও ব্যবসা। তাঁর নগদ ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থাকলেও ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন মাত্র এক লাখ ২৩ হাজার টাকা। তবে তাঁর মোট সম্পদ আছে ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকার।

চাঁদপুর-২ আসনের জালাল উদ্দিন স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে কৃষি, অকৃষিজমিসহ মোট ২২০ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার ২০৪ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন ৯ কোটি ১৪ লাখ ৪১ হাজার ২৫৩ টাকা। তাঁর ৫০ ভরি স্বর্ণ ছাড়াও হাতে নগদ এক কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৮০ টাকা এবং বিদেশি মুদ্রা ৪০৫২ দশমিক ২৫ ডলার ও ৮৯ হাজার পাউন্ড রয়েছে।

কুমিল্লা-৮ আসনের জাকারিয়া তাহের সুমনের ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ টাকার সম্পদ রয়েছে। শরীয়তপুর-২ আসনের সফিকুর রহমান কিরণের সম্পদ আছে ১৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার। চাঁদপুর-৪ আসনের হারুনুর রশিদের সম্পদ ১৬০ কোটি আর শরীয়তপুর-১ আসনের সাইদ আহমেদের সম্পদ আছে ১৫০ কোটি টাকার।

আরও যারা কোটিপতি
হলফনামা অনুযায়ী মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম রিতার ৯৭ কোটি টাকা, রংপুর-৪ আসনের এমদাদুল হক ভরসার ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিনের ৯৭ কোটি ৮ লাখ টাকা, গাজীপুর-২ আসনের এম মঞ্জুরুল করিম রনির ৯৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস ৭৪ কোটি ১১ লাখ টাকা, ঢাকা-৭ আসনের হামিদুর রহমানের ৪৭ কোটি দুই লাখ ২৩ হাজার ৯৮০ টাকা এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আজহারুল ইসলাম মান্নানের ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের কার কী অবস্থান
ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনের প্রার্থী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পেশা রাজনীতি। শেয়ার সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর বছরে আয় ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। হলফনামায় অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য না দেখালেও পুঁজিবাজারে তাঁর বিভিন্ন কোম্পানির ৬৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে; ব্যাংক আমানত এক লাখ ২০ হাজার ও এফডিআর ৯ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; স্বর্ণালংকার (অর্জনকালীন) দুই হাজার ৯৫০ টাকা; আসবাব এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং নগদ হাতে আছে ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৮ টাকা বলে জানিয়েছেন। আর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে অকৃষিজমি দুই স্থানে ৩ একর ৫ শতাংশ, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। উপহার হিসেবে পাওয়া ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমি এবং যৌথ মালিকানায় ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবন। আয়কর রিটার্নে তাঁর দেখানো সম্পদমূল্য এক কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকা।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পেশা ব্যবসা, পরামর্শক, কৃষি আয়, ব্যাংক মুনাফা ও সম্মানী ভাতা। এসব খাতে তাঁর বছরে আয় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের পরিমাণ চার কোটি ছয় লাখ ৫৪ হাজার ৭১৫ টাকা। হাতে নগদ আছে এক কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ১১৬ টাকা ৭৭ পয়সা। ব্যাংকে জমা আছে তিন কোটি ৮২ লাখ ১৫ হাজার ২৯৬ টাকা।

কক্সবাজার-১ আসনের সালাহউদ্দিন আহমেদের পেশা আইনজীবী ও ব্যবসা। বার্ষিক আয় এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা। তাঁর নামে সম্পদ আছে ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার; স্ত্রীর নামে ১২ কোটি ১৯ লাখ টাকার। সালাহউদ্দিন আহমেদের একটি কার ও দুটি শিপ রয়েছে। পেকুয়ায় রয়েছে তিনতলা বাসভবন ও ঢাকার গুলশানে রয়েছে চার হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।

কুমিল্লা-১ আসনের ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। ড. মোশাররফ পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর আয়ের উৎস দেখিয়েছেন কৃষি খাত থেকে এক লাখ ৮৮ হাজার ২১০ টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে ৭২ লাখ ৮৬ হাজার ৭৩৪ টাকা। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তাঁর নামে ১৪৩ শতক কৃষিজমি এবং ২৩ শতক অকৃষিজমি রয়েছে। ঢাকার গুলশানে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছয়তলা বাড়ি। সব মিলিয়ে বর্তমান স্থাবর সম্পত্তির মূল্য ১০ কোটি ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৫১০ টাকা।

চট্টগ্রাম-১১ আসনের আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিএ পাস। তাঁর হাতে নগদ ১ কোটি ৮৭ লাখ, ব্যাংকে আছে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সম্পদ রয়েছে ১৫ কোটি টাকার; বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ।

ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাসের পেশা ব্যবসা। বাড়ি ভাড়া, ব্যাংক আমানত ও এফডিআরের লাভ থেকে বছরে তাঁর আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ১৩২ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর সম্পদের মূল্য ৭৪ কোটি ১১ লাখ ২ হাজার ১২ টাকা। তাঁর হাতে নগদ অর্থ আছে দুই কোটি ৫১ লাখ এবং বিদেশি মুদ্রা ১ লাখ ২ হাজার ৮৭৫ ডলার। ব্যাংকে আছে ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৬১৯ টাকা।

ঢাকা-৩ আসনের গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পেশা কৃষি। তাঁর বার্ষিক আয় কৃষি খাত থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ১৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯৮ টাকা এবং অন্যান্য ৪ হাজার ৮৬০ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদ আছে ৬১ কোটি ১০ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকার। তাঁর নগদ আছে ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫৯ টাকা এবং ব্যাংকে আছে ৭৬ হাজার ৯৮৫ টাকা।

নরসিংদী-২ আসনের ড. আব্দুল মঈন খান পেশায় গবেষক। এ প্রার্থীর নগদ টাকা দেখানো হয়নি। তবে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

ঢাকা-২ আসনের আমান উল্লাহ আমানের পেশা ব্যবসা। কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদ আছে ৩৫ কোটি ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার ৭০৫ টাকার। নগদ অর্থ ৩৩ লাখ ৭ হাজার ২১০ টাকা এবং ব্যাংকে আছে ৫৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৮৫ টাকা।

টাঙ্গাইল-৫ আসনের সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়, আমানত আছে ১০ লাখ ১৫ হাজার টাকার। নগদ টাকা ৩ লাখ ৩৭ হাজার। স্ত্রীর ৮ লাখ ১৫ হাজার। নিজের ৪৫ ভরি ও স্ত্রীর আছে ৮০ ভরি স্বর্ণ। বর্তমানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য ৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

উল্লেখযোগ্য যারা
কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. ওসমান ফারুক এখন অবসর জীবনে। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে করিমগঞ্জে একটি বাড়ি, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বাড়ি, যানবাহন ও অলংকারের মূল্য ৩৮ লাখ টাকা এবং ঢাকায় পাঁচ কোটি টাকার চারটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। তাঁর নগদ আছে ৩৪ লাখ ৭১ হাজার ৫০০ টাকা। বিদেশি মুদ্রার মধ্যে আছে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৭ মার্কিন ডলার এবং স্ত্রী রানা ফারুকের আছে আট হাজার মার্কিন ডলার।

ঢাকা-১৩ আসনের ববি হাজ্জাজের পেশা শিক্ষকতা ও ব্যবসা। তিনি বছরে আয় করেন ৩৫ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৩ টাকা। হলফনামায় তাঁর সম্পদের মোট মূল্য না দেখালেও হাতে নগদ এক কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭২ টাকা ও ব্যাংকে জমা ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৯ টাকা ছাড়াও শেয়ার, গাড়ি, ৩৫ ভরি স্বর্ণ এবং স্ত্রী রাশনা ইমামের কাছে ১২০ ভরি গহনা (সোনা ও অন্য মূল্যবান ধাতু) রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা-১৪ আসনের গুমের শিকার ভুক্তভোগী পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কারী সানজিদা ইসলাম তুলি পেশায় গৃহিণী। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর প্রায় ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। সঞ্চয়পত্র থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

ঢাকা-১৬ আসনের আমিনুল হকের পেশা ব্যবসা। তাঁর বছরে আয় ২০ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের মূল্য ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৭০ হাজার ৪৩২ টাকা।

ঢাকা-১৯ আসনের দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের পেশা ব্যবসা। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সালাউদ্দিনের হলফনামার কিছু অংশ (কয়েকটি পাতা) নেই। এ কারণে এই প্রার্থীর বার্ষিক আয়, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর কাছে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার ৭৯২ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ৭ লাখ ৮ হাজার ৬৯০ টাকা। এ ছাড়া তাঁর নিজের ২০ ভরি এবং স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকার ৮০ ভরি স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে।

ঢাকা-৬ আসনের ইশরাক হোসেনের পেশা ব্যবসা। তাঁর বছরে আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে সম্পদের মূল্য ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৮ হাজার ৯০ টাকা।

মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের শেখ মো. আব্দুল্লাহর বার্ষিক আয় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর মিলিয়ে ৪৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকার সম্পদ আছে। এর মধ্যে নিজের ১৩০ ভরি স্বর্ণ, ১৯ দশমিক ৪৪ ভরি হীরা, স্ত্রীর ৬৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৬ দশমিক ৬৮ ভরি হীরা আছে।

ফরিদপুর-২ আসনের শামা ওবায়েদ ইসলামের পেশা ব্যবসা। তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার। ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফ আহমেদের পেশা ব্যবসা। তিনি ৫ কোটি টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। নগদ দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি দেখিয়েছেন উত্তরাধিকারসূত্রে ২৫০ শতাংশ, অকৃষিজমি ১২.৪৫ শতাংশ, দোকান ৫০০ বর্গফুট এবং সাড়ে পাঁচ তলা বাড়ির এক-চতুর্থাংশ।

রাজবাড়ী-১ আসনের আলী নেওয়াজ মাহমুদের পেশা ব্যবসা। বার্ষিক আয় ২৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা। নগদ অর্থের পরিমাণ ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু ব্যবসায়ী। এ প্রার্থীর নগদ আছে ৭০ লাখ টাকা। ৩০ ভরি স্বর্ণ, স্থাবর সম্পদ আড়াই কোটি টাকার। অস্থাবর সম্পদ নেই।

রংপুর-৬ আসনের সাইফুল ইসলামের পেশা কৃষি ও ব্যবসা। তাঁর বার্ষিক আয় সাত লাখ ৯৮ হাজার ৯২৫ টাকা। তাঁর সম্পদের মূল্য ৩ কোটি ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ১২৬ টাকা। নগদ ৬ লাখ ৬১ হাজার ৯৫৮ টাকা।
গাইবান্ধা-৩ আসনের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ ময়নুল হাসান সাদিক পেশায় চিকিৎসক। কৃষি ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। তাঁর কৃষিজমি ছাড়াও চারতলা ভবন ও ঢাকার বসুন্ধরায় ছয়তলা ভবন রয়েছে।

গাইবান্ধা-৪ আসনের মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের পেশা ব্যবসা। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে ১৯৯.৪৮ শতক জমি আছে। তারও ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। যদিও এসব ভবন উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিলেট-২ আসনের তাহসিনা রুশদীর লুনার পেশা অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী। লুনা ১ কোটি ৫০ লাখ ১ হাজার ১৫৮ টাকার অস্থাবর এবং ৮৯ লাখ ৬৬ হাজার ৫শ টাকার স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। সিলেট-৩ আসনের আব্দুল মালিক স্বশিক্ষিত। তিনি ১ কোটি ১০ লাখ টাকা অস্থাবর এবং ৭০ লাখ টাকা স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। নগদ টাকা দুই লাখ দেখালেও মার্কিন ডলার ৭১ হাজার ৭৩৫ ও ৬ হাজার ৭১০ ব্রিটিশ পাউন্ড দেখিয়েছেন। তিনি ঢাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট দেখিয়েছেন। ৫টি ব্যাংকে পাউন্ড ও ডলারের পাশাপাশি বাংলাদেশি টাকা দেখিয়েছেন প্রায় ৯৮ লাখ।

সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন। পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ৪ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৩৮৪ টাকা। স্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকা। আরিফুল হকের নগদ টাকা আছে ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯ টাকা। ব্যাংকে আছে ১ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৯ টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ১২:২৩:৪৪ ● ৪৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ