
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত দ্রুত সমাপ্তির পথে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার দলীয় সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেন, “আমি মনে করি এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।” আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফোনালাপে ট্রাম্প বলেন, “বর্তমানে যা কিছু ঘটছে, তার পেছনে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। আমরা কিছুতেই ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানানোর অনুমতি দিতে পারি না।” তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ মানুষই বুঝতে পারছেন যুক্তরাষ্ট্র যা করছে তা সঠিক।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পৃষ্ঠার এই খসড়ায় তিনটি মূল বিষয় রয়েছে — ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। হোয়াইট হাউস মনে করছে, এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তবে দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, খসড়ার বেশিরভাগ শর্তই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্রের নিছক ‘ইচ্ছা তালিকা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই প্রস্তাবে তেহরানের অবস্থান জানানো হবে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, তাঁর দেশ এই যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতে ট্রাম্প একাধিকবার আশাবাদ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য এখনো বিদ্যমান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ১৪ দফা সমঝোতা কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো।
সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা