
প্রান্তিক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে আমূল পরিবর্তন আনতে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। ফলে একই ব্যক্তি বা পরিবার দুটি ভাতা নিতে পারবেন না এবং প্রকৃত অভাবীদের কাছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা সরাসরি পৌঁছাবে।
সচিবালয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বাসস-এর কাছে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
প্রস্তাবিত এই পারিবারিক তথ্যভাণ্ডারে একটি একক ডিজিটাল আইডির অধীনে জানা যাবে কোন পরিবার রাষ্ট্র থেকে কী কী সুবিধা পাচ্ছে। একটি কার্ড ও কিউআর কোড স্ক্যানেই উপকারভোগীর সব তথ্য চলে আসবে এবং ডেটাবেজটি সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটি করতে পারলে একজনের নামের কার্ডের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার মতো অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে।”
আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পর্যায়ক্রমে এগোচ্ছে সরকার। গত ১৬ মে চাঁদপুর থেকে কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী, যেখানে আরও ২০টি ওয়ার্ডে কার্ড চালু হয়েছে। আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।
কার্ড পাওয়া মানুষদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা বেনিফিশিয়ারি, তারা কার্ড পেয়ে খুবই খুশি। পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের মানুষের মধ্যেও তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে — এই ব্যাপক চাহিদাই বলে দিচ্ছে কর্মসূচিটি সফলভাবে লক্ষ্য পূরণ করছে।”
কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি বাছাই করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতিতে। আবেদনকারীর জীবনযাত্রার মান, ঘরে টেলিভিশন বা ফ্রিজ আছে কিনা, বাড়ির ছাদের অবস্থাসহ নানা সূচকে স্কোরিং করা হয়। স্কোর ৮১৪-এর নিচে থাকা ‘অতি দরিদ্র’ পরিবারগুলোই কেবল এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে। মাসিক ভাতার পরিমাণ ২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে যারা আগে ৫০০ বা ১ হাজার টাকার বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা এই কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতাটি ছেড়ে দিতে হবে।
মাঠপর্যায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সরকার ও উপকারভোগীর মাঝখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী সহ্য করা হবে না। সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে কার্ডের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগে একজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।”
ইউরোপ ও আমেরিকার আদলে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সোশ্যাল কার্ড’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। প্রান্তিক নারীদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।